Published : 18 Aug 2024, 07:20 PM
মানবতার সেবায় নিয়োজিত বৃহত্তম নেটওয়ার্ক ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) গাজায় যুদ্ধবিরতি করা এবং অবাধে ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গাজায় লাখ লাখ মানুষ চরম অনাহারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরুর পর প্রায় ৭ মাসে সেখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
আইএফআরসি-এর প্রেসিডেন্ট কেট ফর্বস ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ত্রাণ গাজায় প্রবেশের জন্য আমাদের একটি আশু রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। আমাদেরকে প্রবেশের সুযোগ পেতে হবে। আর তা পেতে হলে যুদ্ববিরতি হতে হবে।”
ফর্বস বলেন, ফেব্রুয়ারিতে রাফা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি খুব খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন। রাফায় ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিল গাজার অন্যান্য অংশ থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
“সেখানে মানুষের থাকার জন্য যথেষ্ট আবাসন ব্যবস্থা ছিল না। পানি ছিল না। যথেষ্ট স্যানিটেশন টয়লেট ছিল না। আমরা একটি হাসপাতাল দেখেছিলাম যেখানে কোনও যন্ত্রপাতি ছিল না… আরও দুঃখজনক, যেটা ভয় করছিলাম সেটাই হয়েছিল, সেখানে যথেষ্ট খাবারও ছিল না,” বলেন তিনি।
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা এ সপ্তাহান্তে জোরাল হয়েছে। যদিও ইসরায়েল গাজায় হামলা থামায়নি এবং আন্তর্জাতিক ন্যাবিচার আদালতের (আইসিজে) দেওয়া রায় উপেক্ষা করে গাজার রাফায় হামলা চালাচ্ছে।
আলোচনা এ সপ্তাহে আগেভাগেই আবার শুরু হবে এমন খবর অস্বীকার করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। দুইপক্ষই আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাসের যুদ্ধ অবসানের দাবি মেনে নিতে পারে না। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা চায় ইসরায়েলের জেলে বন্দি ফিলিস্তিনিরা মুক্তি পাক।
আইএফআরসি-এর প্রেসিডেন্ট কেট ফর্বস বলেন, “আমি সব পক্ষের সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি আলোচনার মধ্য দিয়ে একটি যুদ্ধবিরতি করতে, যাতে আমরা ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে পারি।”