Published : 19 Feb 2026, 10:14 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। বৈঠকে ৪৫ টির বেশি দেশ থেকে প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বৈঠকেকে ঘিরে গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে ঝুলে আছে বহু অমীমাংসিত প্রশ্ন। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজা পুনর্গঠনের জন্য তহবিল এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মনবিক ত্রাণ প্রবেশ- এসবই বড় প্রশ্ন।
আগামী কয়েক সপ্তাহ এবং মাসে এই বিষয়গুলো ঘিরেই বৈঠকের কার্যকারিতা পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে। ‘ডনাল্ড জে ট্রাম্প ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস’ ভবনে হবে এই বৈঠক। সেখানে ভাষণ দেবেন ট্রাম্প।
সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে গাজা পুনর্গঠনের জন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দেবেন তিনি।
সম্মেলনটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অনুমোদনের প্রায় তিন মাস পূর্ণ হতে চলেছে।
এই পরিকল্পনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন ভূখণ্ড গাজা পুনর্গঠন তদারকি এবং ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ গঠনের জন্য বোর্ড অব পিস-কে দুই বছরের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছিল।
গতবছর নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটের পর থেকেই শান্তি পর্ষদ নিয়ে অস্বস্তি বিরাজ করছে। অনেক ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমা মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বড় ধরনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
কেউ কেউ ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন এই শান্তি পর্ষদ কাঠামোকে জাতিসংঘের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।
অন্যরা, এমনকি যারা সদস্য হিসেবে এতে যোগ দিয়েছে, সেই দেশগুলোও গাজায় অর্থবহ পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে এই শান্তি পর্ষদের যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ এই পর্ষদে যোগ দিয়েছে, আর ফেব্রুয়ারির শুরুতে ইসরায়েলও এতে যোগ দিয়েছে, যা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর।
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে ইসরায়েল থাকলেও ফিলিস্তিন নেই। বৃহস্পতিবারের প্রথম বৈঠকেও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। পর্যবেক্ষকদের অনেকে একে স্থায়ী কোনও সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসাবেই দেখছেন।
ওয়াশিংটন ডিসি’র আরব সেন্টারের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কর্মসূচির প্রধান ইউসুফ মুনায়ের প্রশ্ন তুলে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, “এই বৈঠক থেকে ট্রাম্প আসলে ঠিক কী পেতে চান?”
ইউসুফের মতে, ট্রাম্প এটাই বলতে পারতে চান যে, লোকজন অংশ নিচ্ছে। লোকজন এই কর্মপরিকল্পনা-সহ ট্রাম্পের দূরদর্শীতা এবং তার কোনওকিছুকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতায় বিশ্বাস করছে।
তবে ইউসুফ এও বলেন যে, মূল রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোতে পরিষ্কার কোনও সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক থেকে কোনও বড় ধরনের প্রতিশ্রুতি আসবে বলে তিনি মনে করেন না।
"একমাত্র বিকল্প"
ইউসুফের কথায়, গাজার ফিলিস্তিনিদের জীবনমান উন্নয়নে আগ্রহীদের জন্য বর্তমানে ‘বোর্ড অফ পিস’-ই একমাত্র বিকল্প বা ভরসা হিসেবে টিকে আছে। তবে একইসঙ্গে এটি "ডনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িত। এই সংকটে প্রতিক্রিয়া কয়েক দশক ধরে চলতে পারে, তাই বোর্ডের স্থায়িত্ব নিয়ে গুরুতর সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
ইউসুফ বলেন, "এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ এবং গণহত্যা নিয়ে গভীরভাবে যেসব আঞ্চলিক দেশ উদ্বিগ্ন, তাদের কাছে এই আশা করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই যে, শান্তি পর্ষদে তাদের অংশগ্রহণ আগামী কয়েক বছর গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কিছুটা সুবিধা ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।"
তিনি মনে করেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলো যারা চ্যালেঞ্জ এবং প্রেক্ষাপট বোঝে, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবসম্মতভাবে কী অর্জন করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেওয়া... তাৎক্ষণিক প্রয়োজনগুলো চিহ্নিত করে আগ্রাসীভাবে সেগুলোর সমাধান করা।
এর মধ্যে স্বাস্থ্য অবকাঠামো, চলাফেরার স্বাধীনতা, মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বন্ধে চাপ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো অন্যতম।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্তত ৭২,০৬৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও নিহত হয়েছে ৬০৩ জন। গাজার ২১ লাখ জনসংখ্যার প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৮০ শতাংশেরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে।
এই বিধ্বস্ত গাজাকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের রিভিয়েরা’য় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখা ট্রাম্প শান্তি পর্ষদের বৈঠকের আগে দিয়ে ইতিবাচক সুরেই কথা বলেছেন।
রোববার তিনি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ‘বোর্ড অব পিস’- এর অসীম সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেছন, “শান্তি পর্ষদ ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে প্রমাণিত হবে।”
ট্রাম্প আরও জানান, “গাজার মানবিক ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টার জন্য ৫শ’ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হবে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো গাজাবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের জন্য হাজার হাজার সদস্য পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।"
তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। ওদিকে, প্যানেলের গাজা নির্বাহী বোর্ডের সদস্য ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার জানুয়ারিতে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের ‘মাস্টার প্ল্যান’-এর সবচেয়ে স্পষ্ট রূপরেখা দেন।
গাজার ফিলিস্তিনিদের মতামত ছাড়াই তৈরি করা এই পরিকল্পনায় চকচকে আবাসিক টাওয়ার, ডেটা সেন্টার, সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট, পার্ক এবং ক্রীড়া সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এটি মূলত গাজার বিদ্যমান শহুরে কাঠামো মুছে ফেলার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
সে সময় কুশনার এই পুনর্গঠন পরিকল্পনা কীভাবে অর্থায়ন করা হবে তা বলেননি। তিনি বলেছিলেন, হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পর এটি শুরু হবে। দুটি বিষয়ই এখনও অমীমাংসিত।
ইসরায়েলের ওপর চাপ?
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বিশাল নির্মাণ পরিকল্পনায় মশগুল থাকার এই সময়ে ২৫টি দেশ এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে আসা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তাদেরকে কঠিন বাস্তবতার মুখে দাঁড় করাবে বলে মনে করেন ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির রিসার্চ ফেলো অ্যানেল শেলাইন।
তিনি বলেন, শান্তি পর্ষদের ‘ধারণা কাজ করবে কিনা তার প্রমাণ’ দেখাতে হলে ইসরায়েলের ওপর একতরফা চাপ প্রয়োগ করার প্রয়োজন পড়বে।
আল-জাজিরাকে শেলাইন বলেন, "ট্রাম্প আশা করছেন দেশগুলো তার ৫০০ কোটি ডলার দাবিকে সমর্থন করবে এবং কাগজে-কলমে এর প্রকৃত প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাবে।"
কিন্তু সেটি সম্ভবত চ্যালেঞ্জিং হবে। কারণ, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট করেই জানিয়েছে যে, তারা এমন কোনও পুনর্গঠনে অর্থ ঢালতে চায় না, যা কয়েক বছর পরই আবার ধ্বংস হয়ে যাবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রথমে বিরোধিতা করলেও পরে ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে। ইসরায়েল এই পর্ষদে যোগ দেওয়ায় মার্কিন নীতির ওপর তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির রিসার্চ ফেলো শেলাইন বলেন, স্থায়ী শান্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছার প্রমাণ হতে পারে পর্ষদে একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে নেওয়া।
তিনি এক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জনপ্রিয় ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বন্দি মারওয়ান বারঘুতির নাম প্রস্তাব করেন। বারঘুতি ইসরায়েলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
শেলাইন বলেন, তার মুক্তি এমন একটি ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হতে পারে, যেখানে ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাব খাটাতে পারে।
স্বল্পমেয়াদে শান্তি পর্ষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো মূলত নিরাপত্তা পরিস্থিতি সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছে। ইসরায়েল প্রতিদিন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং ইয়েলো লাইনের আওতা বাড়াচ্ছে, বলেন শেলাইন।
‘ইয়েলো লাইন’ হল গাজার সেই সীমানা যার পেছনে ইসরায়েলি বাহিনীকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ হিসাবে সরে যেতে বলা হয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়া সরকার জানিয়েছে, তারা গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনীর জন্য ১,০০০ সেনা দিতে প্রস্তুত এবং পরে এই সংখ্যা ৮,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। তবে শেলাইন বলেন, যুদ্ধবিরতির পাকা নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও সেনা মোতায়েনে সম্ভবত দেরি হবে।
তার কথায় "এটি এখনও এক সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্র। তাই এটি স্বাভাবিক যে ইন্দোনেশিয়া, যারা এখন সেনা পাঠানোর কথা বলছে, তারাও হয়ত বলবে- পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত আমরা আসলে এ পদক্ষেপ নেব না।"
একটি সুযোগ?
ইউনিভার্সিটি অফ নটরডেমের ‘ক্রক ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস স্টাডিজ’-এর মধ্যস্থতা কর্মসূচির পরিচালক লরি নাথানের মতে, প্রকৃত যুদ্ধবিরতি কার্যকর নিশ্চিত করাই শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতার ব্যবস্থাও করতে হবে।
আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, "গাজায় স্থিতিশীলতা না থাকলে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড ভূখন্ডটির পুনর্গঠনে কোনও অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারবে না। আর স্থিতিশীলতা আনার জন্য যুদ্ধবিরতি মেনে চলা অপরিহার্য।"
পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং বৃহস্পতিবারের বৈঠক থেকে যে বড় অগ্রগতি আসতে পারে তা হল— সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি। যদিও নাথান বলছেন, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের স্বেচ্ছায় নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যে কোনও সেনা মোতায়েনই সম্ভবত থমকে থাকবে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে, ট্রাম্প গাজায় স্থিতিশীলতা আনতে ইসরায়েলের ওপর ওয়াশিংটনের যথেষ্ট প্রভাব খাটাতে ক্রমেই তৎপর হবেন। কারণ, প্রেসিডেন্ট গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরানোর বিষয়টিকে নিজের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেছেন।
সর্বোপরি, ট্রাম্প ও তার মিত্ররা বারবারই তাকে "পিসমেকার-ইন-চিফ" বা প্রধান শান্তিরক্ষক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের সাফল্যের কথা বারবার চাউর হয়েছে। যদিও মাঠ পর্যায়ের বাস্তাবতায় সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন যে, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত। তবে নাথান বলেন, "ট্রাম্পের অনুপ্রেরণা বহুমুখী। তিনি কি শান্তির পরোয়া করেন? আমার মনে হয় করেন। তিনি কি শান্তি মধ্যস্থতাকারী হতে চান? হ্যাঁ। তিনি কি সত্যিই নোবেল শান্তি পুরস্কার চান? হ্যাঁ।”
"অন্যদিকে, তিনি লোক দেখানো কাজও পছন্দ করেন... তার কতটায় তিনি আন্তরিক, তা কখনোই পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আরেক সমস্যা হল, ট্রাম্প যখন এসব করেন তখন তার ব্যক্তিগত স্বার্থ সবসময়ই জড়িত থাকে।"
আরও বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষা?
ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্র এবং সংঘাত নিরসন বিশেষজ্ঞরা শান্তি পর্ষদের ব্যাপক পরিধি খতিয়ে দেখেছেন, যা গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত গাজার সীমানার বাইরে অনেক দূর বিস্তৃত বলেই মনে হয়েছে।
আমন্ত্রিত দেশগুলোর কাছে পাঠানো সনদে গাজার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, বরং তাতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পূর্ববর্তী পদ্ধতিকে কটাক্ষ করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এতে সংকটের সমাধান না হয়ে বরং তা স্থায়ীভাবে নির্ভরতা তৈরি হয়েছে এবং সংকট প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।"
আগের পদ্ধতির বদলে সনদে ‘আরও দক্ষ ও কার্যকর আন্তর্জাতিক শান্তি-প্রতিষ্ঠাকারী সংস্থার’ আশা জাগিয়ে তোলা হয়েছে। সমালোচকরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তি পর্ষদের ‘চেয়ারম্যান’ এবং একমাত্র ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে ট্রাম্পের একক ও অনির্দিষ্টকালের ভূমিকা নিয়ে।
এটি জাতিসংঘের মতো সংস্থাগুলোতে বহুত্ববাদের যে নীতি থাকার কথা তা ক্ষুণ্ন করে। সমালোচকরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং ব্যক্তি ট্রাম্পের মধ্যে লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি ‘লেনদেনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ তৈরি করে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বৈশ্বিক সমস্যা ও প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক রিচার্ড গওয়ান বলেন, এসব উদ্বেগ সহসাই দূর হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে তিনি মনে করেন না যে, শান্তি পর্ষদ অর্থবহ অগ্রগতি করতে পারলে ইউরোপীয় দেশগুলো একে সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকবে।
তিনি বলেন, "বাস্তবতার নিরীখে আমি মনে করি, অন্য দেশগুলো গাজায় শান্তি পর্ষদ যা করছে তা সমর্থন করার চেষ্টা করবে। তবে অন্যান্য বিষয়ে তারা দূরত্ব বজায় রাখবে।"
বৃহস্পতিবারের বৈঠক শান্তি পর্ষদের ভবিষ্যৎ গতিপথ ও ধরন নির্দেশ করতে পারে।
গওয়ান বলেন, “ট্রাম্প সনদের আওতায় তার ক্ষমতা ব্যবহার করে সবাইকে আদেশ দিলে, তার অপছন্দের কোনও প্রস্তাব আটকে দিলে এবং ব্যক্তিগত খেয়ালখুশিমতো শান্তি পর্ষদ পরিচালনা করলে, যেসব দেশ ট্রাম্পের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক রাখতে চায় তারাও তখন ভাববে, তারা আসলে কিসের মধ্যে জড়াচ্ছে।"
তবে গাওয়ান বলেন, "ট্রাম্প তার নমনীয় দিকটি দেখালে; আসলেই শুনতে ইচ্ছুক হলে—বিশেষ করে আরব গোষ্ঠীর কথা এবং গাজার প্রয়োজন সম্পর্কে তারা যা বলছে সেটি যদি মনে হয় যে, তা একটি প্রকৃত কন্টাক্ট গ্রুপের মধ্যে প্রকৃত কথোপকথন হচ্ছে, তাহলে শান্তি পর্ষদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব প্রশ্ন মুছে না গেলেও অন্তত এই ইঙ্গিত মিলবে যে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কাঠামো হতে পারে।”