আঞ্চলিক সংঘাত বাড়ার মধ্যে পরস্পরকে হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিউ ইয়র্ক যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে পরস্পরকে হুমকি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি কোনো চুক্তি না করে তবে তারা অর্থনৈতিকভাবে ব্যর্থ হবে অথবা এর নেতৃত্ব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মুখোমুখি হতে পারে। অপরদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী বলেছে, নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে তারা এর কঠোর জবাব দিবে।
রয়টার্স লিখেছে, এই সংঘাত কয়েক মাস ধরে অচলাবস্থায় রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট গভীর হয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর এটি ছড়িয়ে নতুন আঞ্চলিক উত্তেজনার দিকে গড়ালেও কোনো পক্ষই ছাড় দেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।
ফক্স নিউজের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, তার সঙ্গে এক ফোন কলে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নেতাদের উচিত একটি চুক্তি করা, অন্যথায় অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যেতে হবে অথবা নিশ্চিহ্ন হতে হবে।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউ ইয়র্ক যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজের ওই সাংবাদিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত আছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। তারপর থেকে সাত মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে ট্রাম্প বারবার বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে আসলেও সেগুলো বাস্তবায়ন করেননি।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বলেছে, নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে তা মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের সূত্রপাত ঘটাবে আর ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদেরও এই সংঘাতের পক্ষভু্ক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, তাদের কাছে এমন খবর আছে। কিন্তু ওই কথিত খবরের বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যে কোনও আলোচনা শুরু করার জন্য ওয়াশিংটনকে ৭ টি শর্ত দিয়েছে ইরান। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি রোববার একথা জানিয়েছেন।
এক্সে এক পোস্টে রেজাই লেখেন, "যুক্তরাষ্ট্র নিজহাতে তৈরি করা এই সংকট থেকে বের হতে চাইলে ইরানের অধিকার ও শর্তগুলো মেনে নিতে হবে।"
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, ইরানকে একইসঙ্গে শত্রুদের পিছু হটাতে লড়াই ও কূটনীতির মাধ্যমে অর্জিত সাফল্য সুসংহত করতে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।
