Published : 18 Aug 2026, 01:46 PM
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি ধরে যাওয়ার সময় আরেকটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর ক্রুরাও হতাহত হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, মঙ্গলবার এ হামলার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন পেয়েছে তারা। তাতে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে। জাহাজটির বাকি নাবিকদের ওমানের কোস্টগার্ড সহায়তা করছে।
ইউকেএমটিও বলেছে, “প্রতিবেদনে কোম্পানির নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাইরের দিকে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর নাবিকরা হতাহত হয়।”
তবে এ হামলায় জাহাজটির কতোজন নাবিক হতাহত হয়েছে তা পরিষ্কার হয়নি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটির কারণে পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সাবধানে চলতে ও কোনো ধরনের সন্দেহজনক তৎপরতা চোখে পড়লে তা জানানোর পরামর্শ দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহ হতো। কিন্তু এখন প্রণালিটি পারপার হওয়া জাহাজের সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে আর জলযানগুলোকে ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে অত্যন্ত গোপনে অথবা ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলাচল করতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার কেপলারের জাহাজ চলাচলের তথ্যের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে। এর আগে শনি ও রোববার এ সংখ্যা আরও কম ছিল।
পণ্যবাহী এই ছয় জাহাজের মধ্যে তিনটি পারস্য উপসাগর থেকে বের হয়েছে আর অন্য তিনটি প্রবেশ করছে। শনিবার এই প্রণালি দিয়ে তিনটি জাহাজ আর রোববার মাত্র দুটি পারাপার করেছে।
তবে এরমধ্যে অপরিশোধিত তেলবাহী অতি বৃহৎ কোনো ক্যারিয়ায় (ভিএলসিসি) বা তরল প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী কোনো ট্যাংকার প্রণলাটিতে দেখা যায়নি।