নিলামে কেনা স্যুটকেসে শিশুর দেহাবশেষ: দক্ষিণ কোরিয়ায় এক নারী গ্রেপ্তার

নিউজিল্যান্ডে গত মাসে এক পরিবার নিলামে একটি স্যুটকেস কিনে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর খুলে ভেতরে মানুষের দেহাবশেষ পায়। এ ঘটনা সবাইকে চমকে দিয়েছিল।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 02:36 PM
Updated : 15 Sept 2022, 02:36 PM

নিউজিল্যান্ডে গত মাসে নিলামে কেনা স্যুটকেস থেকে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ওই নারীকে তার দুই সন্তান হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গত মাসে নিউজিল্যান্ডে অকল্যান্ড নগরীর এক পরিবার নিলামে পরিত্যাক্ত একটি স্যুটকেস কিনে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর খুলে সেটির ভেতরে মানুষের দেহাবশেষ পায়। এ ঘটনা সবাইকে চমকে দিয়েছিল।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর নরহত্যার তদন্ত শুরুর পাশাপাশি দেহাবশেষ শনাক্ত করার চেষ্টা চালায়।

কোরিয়ান পুলিশের তথ্যমতে, স্যুটকেসের দেহাবশেষ সাত ও দশ বছর বয়সী দুই শিশুর। তাদের মৃতদেহ কয়েক বছর ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিবিসি জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীকে হস্তান্তরের জন্য নিউজিল্যান্ড এরই মধ্যে আবেদন করেছে।

অকল্যান্ড পুলিশ বলেছে, অপরাধীর খোঁজ পেতে তারা দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। ওই নারী দক্ষিণ কোরিয়ায় আছেন বলে গতমাসে পুলিশ ধারণা প্রকাশ করার পর তার সন্ধান শুরু হয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী এই নারী কোরিয়ান বংশোদ্ভূত নিউজিলান্ডের নাগরিক। দুই শিশুর মৃত্যুর পর ২০১৮ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যান।

Also Read: নিলামে কেনা স্যুটকেসে মিলল মানুষের দেহাবশেষ

তাকে গ্রেপ্তার করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর উলসানের একটি অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারীরা ওই নারীর অবস্থান জানার পর তাকে গোপন নজরদারিতে রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের জাতীয় পুলিশ সংস্থা।

গত মাসে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা শিশুদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এবং সন্দেহভাজন নারীর সন্ধান করছে। তবে তখন তারা ওই শিশুদের নামপরিচয় প্রকাশ করেনি।

বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ড পুলিশের গোয়েন্দা পরিদর্শক বলেছেন, “এত অল্প সময়ের মধ্যে বিদেশে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে কোরিয়ান কর্তৃপক্ষের সহায়তা এবং নিউজিল্যান্ড পুলিশের ইন্টারপোল কর্মীদের সমন্বয়ের কারণে।”

হত্যার অভিযোগ থাকায় সন্দেহভাজন ওই নারীকে নিউজিল্যান্ডে ফেরত পাঠানোর আগে তার জামিন নাকচ করার অনুরোধ করেছে পুলিশ।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, পরিবারটি কয়েক বছর ধরে অকল্যান্ডে বাস করেছিল। মারা যাওয়া শিশুদের বাবা আগেই ক্যান্সারে মারা যান। তবে তাদের দাদা-দাদি এখনও নিউজিল্যান্ডে থাকে।

নিলাম থেকে স্যুটকেস কেনা পরিবারটির সঙ্গে ওই শিশুদের মৃত্যুর কোনও যোগসূত্র ছিল না বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক