Published : 23 Dec 2025, 11:47 AM
ইউক্রেইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা অঞ্চলে হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া; তাতে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে অঞ্চলটির সামুদ্রিক অবকাঠামো ।
ইউক্রেইনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেকসি কুলেবা বলেছেন, মস্কো এই অঞ্চলে ‘পদ্ধতিগত’ আক্রমণ শুরু করেছে।
গত সপ্তাহে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, “যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু সম্ভবত ওদেসার দিকে সরে গেছে।”
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ধারাবাহিক হামলাগুলো ইউক্রেইনের সামুদ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বন্ধ করতে মস্কোর একটি প্রচেষ্টা।
কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ এর ট্যাংকারে ইউক্রেইন যে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে, তার প্রতিশোধ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সাগরে ইউক্রেইনের প্রবেশাধিকার বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন।
‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলতে এমন শত শত ট্যাংকারকে বোঝায়, যেগুলো ২০২২ সালে ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর আরোপ হওয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহার করে রাশিয়া।
ওদেসার বন্দর অবকাঠামোতে সোমবার সন্ধ্যায় হামলা হয়, যাতে একটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন সেখানকার গভর্নর।
বিবিসি লিখেছে, ধারাবাহিকভাবে শত শত হামলার এটিই সবশেষ ঘটনা। এসব হামলায় কয়েক দিন ধরে অঞ্চলটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
রোববার রাতে হামলার ফলে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং একটি প্রধান বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়, তাতে ময়দা ও ভোজ্যতেলের কয়েক ডজন কনটেইনার ধ্বংস হয়।
গত সপ্তাহেই ওদেসার পূর্বে পিভদেন্নি বন্দরে একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন।
সপ্তাহের শুরুতে আরেকটি হামলায় তিন সন্তানসহ গাড়িতে ভ্রমণরত এক নারী নিহত হন; ইউক্রেইন ও মলদোভার মধ্যে সংযোগকারী ওদেসা অঞ্চলের একমাত্র সেতুটি সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সপ্তাহান্তে কমান্ডার দমিত্রো কারপেনকোকে বরখাস্ত করে শিগগিরই ওই অঞ্চলের বিমান বাহিনীর জন্য নতুন কমান্ডার নিয়োগ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।
বিবিসি লিখেছে, ওদেসার বন্দর সবসময়ই ইউক্রেইনের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিইভ ও খারকিভের পর এটিই দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর। ইতোমধ্যে জাপোরিঝঝিয়া, খেরসন ও মাইকোলাইভ অঞ্চলের অন্যান্য বন্দর রাশিয়া দখল করার কারণে ওদেসা এখন ইউক্রেইনের জন্য কৌশলগতভাবে আগের চাইতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেইনে কয়েক বছর ধরে যুদ্ধ চললেও দেশটি এখনো বিশ্বের শীর্ষ গম ও ভুট্টা রপ্তানিকারকদের একটি।
বিবিসি লিখেছে, ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে শস্য রপ্তানির জন্য ইউক্রেইনের কাছে ওদেসা গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হয়ে উঠেছে। রোমানিয়া ও বুলগেরিয়া উপকূল ধরে তুরস্কে পৌঁছায় পণ্যবাহী জাহাজ।
জেলেনস্কি এর আগে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওদেসার মানুষের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ করেছিলেন।
“চাপ ছাড়া যে সত্যিকার অর্থে আগ্রাসন শেষ করার ইচ্ছে রাশিয়ার নেই, তা সবারই দেখা উচিত।”
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক চেষ্টার সবশেষ বৈঠকের পর তার এ বক্তব্য আসে। যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ইউক্রেইনীয় ও রুশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে। বৈঠক থেকে আশাব্যঞ্জক কথা এলেও ৪ বছর ধরে চলা ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানের কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ বলেছেন, চলতি মাসের শুরুতে ইউক্রেইন প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার খসড়া নিয়ে ‘অবস্থান সমন্বয়’ করতে তিনি ও জেলেনস্কির বিশেষ প্রতিনিধি রুস্তেম উমেরভ কাজ করেছেন। এ পরিকল্পনাটি গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত পরিকল্পনার একটি বিকল্প। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি মস্কোর অনুকূলে যায় বলে মনে করা হয়।
রুশ প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ ফ্লোরিডা থেকে মস্কোতে ফেরার আগে ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ সাংবাদিকদের বলেন, শান্তি প্রস্তাবে ইউরোপীয় ও ইউক্রেইনীয় পরিবর্তনগুলো শান্তি অর্জনের সম্ভাবনা বাড়াবে না।
রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ সোমবার অভিযোগ করেন, ইউক্রেইন প্রশ্নে সম্ভাব্য রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার এবং সামগ্রিকভাবে রাশিয়া-আমেরিকার সম্পর্ক উন্নত হওয়া ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ‘দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা’ রয়েছে।
তিনি এও বলেন, রুশ হামলার শঙ্কা নিয়ে বাতিক রয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোর। ইইউ বা নেটোতে আক্রমণের যে কোনো পরিকল্পনা নেই তার নিশ্চয়তায় আইনি চুক্তি করতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া।
তার এই বক্তব্য পুতিনের আগের বক্তব্যকেই প্রতিফলিত করে।
গত নভেম্বরে পুতিন বলেছিলেন, “(ইউরোপে আক্রমণের) কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই। কিন্তু তারা যদি আমাদের কাছ থেকে তা শুনতে চায়, তাহলে ঠিক আছে—আমরা তার লিখিত দেব।”