লাদেনের পরিবার থেকে ১০ লাখ পাউন্ড নিয়েছিলেন প্রিন্স চার্লস

গত মাসেই কাতারের ধনকুবেরের কাছ থেকে চার্লসের দাতব্য সংস্থার জন্য স্যুটকেস ভরে নগদ ইউরো অনুদান নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে লাদেনের পরিবারের কাছ থেকেও তার অর্থ গ্রহণের খবর প্রকাশ পেল।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 July 2022, 02:30 PM
Updated : 31 July 2022, 02:30 PM

ব্রিটিশ যুবরাজ প্রিন্স চার্লস তার দাতব্য সংস্থার জন্য প্রয়াত আল কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের পরিবারের কাছ থেকে ১০ লাখ পাউন্ড অনুদান নিয়েছিলেন।

‘দ্য সানডে টাইমস’ এ সংক্রান্ত একটি খবর প্রকাশ পেয়েছে বলে রোববার জানিয়েছে বিবিসি।

খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর ২০১৩ সালে তার দুই সৎ ভাই চার্লসের দাতব্য প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসিএফ-কে ওই অনুদান দিয়েছিলেন।

গত মাসেই কাতারের ধনকুবের ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জসিম আল থানির কাছ থেকে চার্লসের দাতব্য সংস্থার জন্য স্যুটকেস ভরে নগদ ইউরো অনুদান নেওয়ার খবর নিয়ে বিতর্ক এবং তদন্ত চলার মধ্যে লাদেনের পরিবারের কাছ থেকেও তার অর্থ গ্রহণের খবর প্রকাশ পেল।

এ বিষয়ে লন্ডনে প্রিন্স চার্লসের রাজকীয় বাসভবন ক্লারেন্স হাউজের পক্ষ থেকে বিবিসি-কে বলা হয়েছে, পিডব্লিউসিএফ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছিল, ‘যথাযথ নিয়মে যাচাই করার পরই’ সংস্থাটির ট্রাস্টিরা ওই অর্থ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

‘‘এই বিষয়টিকে রং চড়িয়ে অন্য কোনও ভাবে দেখানোর চেষ্টা করা ভুল হবে।”

‘দ্য সানডে টাইমস’ খবরটি যেভাবে উপস্থাপন করেছে এবং যেসব পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে তার বেশ কয়েকটি নিয়ে তাদের আপত্তি আছে বলেও জানায় ক্লারেন্স হাউজ।

সানডে টাইমসের খবরে বলা হয়, ওসামা বিন লাদেনের ভাই বকর বিন লাদেনের সঙ্গে ক্লারেন্স হাউজে একটি বৈঠকের পর প্রিন্স চার্লস সৌদি আরবের ধনী পরিবারটির কর্তা বকর এবং তার ভাই শফিকের কাছ থেকে ওই অনুদান গ্রহণ করেন।

‘ক্লারেন্স হাউজ এবং পিডব্লিউসিএফ-র উপদেষ্টাদের আপত্তির পরও প্রিন্স চার্লস ওই অর্থ নিয়েছিলেন’ বলেও বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়।

তবে পিডব্লিউসিএফ-র প্রধান ইয়ান চেশার সানডে টাইমস-কে বলেছেন, পাঁচজন ট্রাস্টি ‘সতর্কভাবে যাচাইয়ের’ পর ২০১৩ সালে অনুদান হিসেবে গ্রহণ করা ওই অর্থ নিতে একমত হন।

তিনি বলেন, ‘‘সরকারসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয় এবং সেগুলো যথা নিয়মে যাচাই করা হয়।

‘‘অনুদান গ্রহণের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে ট্রাস্টিদের নেওয়া। তাই এটিকে অন্যভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা বিভ্রান্তিকর এবং ভুল।”

যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা আল কায়েদা জঙ্গি নেতা ওসামা বিন লাদেনের নির্দেশেই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়, যাদের মধ্যে ৬৭ জন যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ২০১১ সালে পাকিস্তানে আত্মগোপনে থাকা ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে। ১৯৯৪ সালে ওসামার বিন লাদেনের পরিবার তাকে ত্যাজ্য করেছিল।তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সৎ ভাইদের জড়িত থাকার প্রমাণ এখন পর্যন্ত নেই।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক