Published : 01 Sep 2025, 06:42 PM
চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকলেও বিশ্বের বেশিরভাগ গণমাধ্যমের নজর রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর।
সম্মেলনস্থলে এই তিন নেতার হ্যান্ডশেক ও হাসিমুখে কথা বলার ছবি, ভিডিও এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
অর্থনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ তিন দেশকে ক্রমশ আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে; এসসিও সম্মেলনে তিন নেতার অন্তরঙ্গ আলাপচারিতাও একই বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তিয়ানজিনে এবারের সম্মেলনে পুতিন ও মোদীকে হ্যান্ডশেক, আলিঙ্গনের বাইরেও বেশ ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলতে দেখা গেছে। মস্কোর তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর বাড়তি শুল্ক চাপানোর পর এটাই প্রথম দুই নেতার সাক্ষাৎ বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এসসিও সম্মেলনের সাইডলাইনে সোমবারই ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছে। তার আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে মোদী রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ছবি দিয়ে লিখেছেন, “তার সঙ্গে সাক্ষাৎ সবসময়ই আনন্দের।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী তিন নেতার অন্তরঙ্গ কথোপকথনের কিছু মুহূর্তও এক্সে শেয়ার করেছেন।
“তিয়ানজিনে কথাবার্তা চলছে। এসসিও সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট শি ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি বিনিময় করছি,” লিখেছেন মোদী।
পুতিন-শি-মোদীর হাসি ও আলাপচারিতা ২০১৮ সালের ব্রিকস সম্মেলনে তোলা কাছাকাছি আরেকটি ছবির কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে।
এর আগে রোববার এসসিওর সাইডলাইনে মোদী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ৫০ মিনিটব্যাপী ওই বৈঠকে দুই নেতাই সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সহযোগিতা জোরদারে অঙ্গীকার করেছেন।
বৈঠকের শুরুতে করা মন্তব্যে মোদী বলেন, “পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারত-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তিনি অঙ্গীকারাবদ্ধ।”
“গত বছর কাজানে আমাদের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল, যা আমাদের সম্পর্ককে ইতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত থেকে সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পর শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশও সৃষ্টি হয়েছে,” বলেছেন তিনি।
সাত বছরে এটাই প্রথম মোদীর চীন সফর; ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা চরমে পৌঁছেছিল। গত বছর থেকে দুই দেশ ওই তিক্ততা ভুলে একটু একটু করে ফের কাছে আসার চেষ্টা করছে।