Published : 13 Apr 2026, 10:41 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নতুন পোস্টে হুমকি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ এলাকার ধারেকাছে এলে ইরানের আক্রমণকারী জাহাজ (অ্যাটাক শিপ) ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরুর সময় জানিয়ে দিয়েছিলেন।
ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশ করা বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ আটকানো শুরু করবে।”
এই অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ পরই ট্রুথ সোশ্যালে নতুন ওই হুমকি দিলেন ট্রাম্প।
এতে তিনি লেখেন, “ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে। তাদের ১৫৮টি জাহাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
“তাদের কিছুসংখ্যক দ্রুতগামী আক্রমণকারী জাহাজ (ফাস্ট অ্যাটাক শিপ) আছে। সেগুলোতে আমরা এতদিন আঘাত হানিনি। কারণ, এই জাহাজগুলোকে আমরা বড় ধরনের হুমকি মনে করিনি।”
ট্রাম্প আরও লেখেন, “সতর্কতা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের আওতায় থাকা এলাকার ধারেকাছেও আসে, তাহলে সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হবে।
“সমুদ্রপথে মাদক ব্যবসায়ীদের নৌকা ধ্বংস করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, এক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা হামলা করে ইরানও। সেই সময় থেকেই ইরান অবরুদ্ধ করে রেখেছিল হরমুজ প্রণালি।
কয়েক আগে ইরানের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তখন জানানো হয়, দু’সপ্তাহের এই বিরতির মধ্যে সমাধানসূত্র খুঁজতে আলোচনায় বসবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আর হরমুজ খুলে দেওয়া হবে।
সেই কথামতো হরমুজে অবরোধ সাময়িক তুলে নেয় ইরান। সব দেশের জাহাজই একে একে পার হচ্ছিল প্রণালি। কিন্তু পাকিস্তানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিবৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর আবার অচলাবস্থা দেখা দেয় হরমুজে।
ইরান জানায়, এই প্রণালি পার করতে গেলে তাদেরকে টোল দিতে হবে। সেই শর্ত মানতে নারাজ হয় যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামাবাদে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই ট্রাম্প জানান, এবার মার্কিন বাহিনীও হরমুজে ইরান বন্দরগুলো অবরোধ করবে।