Published : 25 Jul 2025, 11:24 AM
প্রথম জি-৭ দেশ হিসেবে ফ্রান্স আগামী সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ।
এক এক্স পোস্টে তিনি বলেছেন, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এক অধিবেশনে এই স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
“আজ সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল গাজায় যুদ্ধের অবসান এবং বেসামরিক জনগণকে উদ্ধার করা। শান্তি সম্ভব। আমাদের এখনই একটি যুদ্ধবিরতি, সব জিম্মির মুক্তি এবং গাজার জনগণের জন্য ব্যাপক মানবিক সহায়তা দরকার।”
বিবিসি লিখেছে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা মাক্রোঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাস যে হামলা চালিয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এই পদক্ষেপ “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করে।”
জি-৭ হল বিশ্বের শিল্পোন্নত সাতটি দেশের একটি জোট, যেখানে ফ্রান্স ছাড়াও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, কানাডা ও জাপান।
মাক্রোঁ বৃহস্পতিবারের পোস্টে লেখেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির ঐতিহাসিক অঙ্গীকার রেখে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে- ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স।
“আমাদের হামাসকে নিরস্ত্র করার নিশ্চয়তা দিতে হবে, গাজাকে নিরাপদ করতে হবে এবং পুনর্গঠন করতে হবে।
“সবশেষে, আমাদের ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে, তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে, এবং দেশটি যেন নিরস্ত্রীকরণ মেনে নিয়ে এবং ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে স্বীকৃতি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সবার নিরাপত্তায় অবদান রাখে। এর কোনো বিকল্প নেই।”
মাক্রোঁ তার সিদ্ধান্তের কথা চিঠির মাধ্যমে ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে জানিয়েছেন।
মাক্রোঁর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেইখ বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন ও ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতিই প্রকাশ করে।”
এদিকে নেতানিয়াহু এক্স পোস্টে বলেছেন, “৭ অক্টোবরের নৃশংসতার পর ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ জানিয়েছেন, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই।
“এ অবস্থায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র- ইসরায়েলের পাশে শান্তিতে থাকার জন্য নয়, বরং ইসরায়েল ধ্বংসের জন্য একটি উৎক্ষেপণস্থল হবে। স্পষ্ট করে বলি: ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের পাশে একটি রাষ্ট্র চায় না, তারা ইসরায়েলের স্থলে একটি রাষ্ট্র চায়।”
ফ্রান্সের সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক পথের ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করে হামাস বিশ্বের সব দেশকে ফ্রান্সের পদক্ষেণ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪০টির বেশি দেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে স্পেন, আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ রয়েছে।
তবে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, হত্যা বন্ধে জরুরি কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে তিনি শুক্রবার ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে ‘জরুরি ফোনালাপ’ করবেন।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রগঠন ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। একটি যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে আমাদের এগিয়ে নেবে।”
ফ্রান্সের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এ সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার ও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকে আরও সুদৃঢ় করেছে।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ১২০০ জন নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। তার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় অভিযান শুরু করে ইহুদি রাষ্ট্রটি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এরপর অন্তত ৫৯ হাজার ১০৬ জন মানুষ গাজায় নিহত হয়েছেন। গাজার বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজা শহরের প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজন এখন অপুষ্টিতে ভুগছে এবং প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে।
শতাধিক আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন গাজায় ব্যাপক দুর্ভিক্ষের বিষয়ে সতর্ক করেছে, পদক্ষেপ নিতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে ফিলিস্তিন অঞ্চলে সব ধরনের রসদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণকারী ইসরায়েল বহুবার দাবি করেছে, কোনো অবরোধ নেই; অপুষ্টির জন্য হামাস দায়ী।