১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এপস্টেইনের ‘সুইডিশ স্বর্ণকেশীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিলেন’ অনিল আম্বানি

বার্তায় এপস্টেইন যখন আম্বানির পছন্দের নারীর ধরন সম্পর্কে জানতে চান, তখন এই ভারতীয় ধনকুবের হলিউডের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন।

এপস্টেইনের ‘সুইডিশ স্বর্ণকেশীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছিলেন’ অনিল আম্বানি
ভারতের এক সময়ের শীর্ষ ধনী অনিল আম্বানি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের দায়ে অভিযুক্ত ও কারাগারে মৃত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন। ছবি: এক্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Feb 2026, 11:44 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:53 PM

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এক গুচ্ছ নথি থেকে জানা গেছে, ভারতের এক সময়ের শীর্ষ ধনী অনিল আম্বানির সঙ্গে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের দায়ে অভিযুক্ত ও কারাগারে মৃত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন।

নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের শুরু থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই দুই ব্যক্তির মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান হতো। তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বৈশ্বিক রাজনীতি, ব্যবসা এবং নারী। এমনকি ২০১৭ সালে সরাসরি একে অপরের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনাও করছিলেন তারা। আম্বানি পরিবার সম্পর্কে বেশ কয়েকটি বইয়ের ক্রয়াদেশও দিয়েছিলেন এপস্টেইন। 

২০১৭ সালের ৯ মার্চের একটি বার্তায় আম্বানি যখন জানতে চান, “তুমি কার কথা ভাবছো?”

উত্তরে এপস্টেইন লেখেন, “একজন লম্বা, স্বর্ণকেশী সুইডিশ নারী, যাতে (তোমার) সফরটি আনন্দদায়ক হয়।”

মাত্র ২০ সেকেন্ডের কম সময়ের মধ্যে জবাবে আম্বানি লেখেন, “সেটারই ব্যবস্থা করো।”

নথিতে দেখা গেছে, ২০১৭ সালে প্যারিসে দেখা করার পরিকল্পনা ছাড়াও ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ডনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া নিয়েও তারা আলোচনা করেন। ২০১৯ সালের মে মাসে আম্বানি যখন নিউ ইয়র্কে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তখন এপস্টেইন তাকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। 

এপস্টেইন লিখেছিলেন, “যদি এমন কেউ থাকে যাদের সঙ্গে তুমি গোপনে দেখা করতে চাও, আমাকে জানিও।”

ম্যানহাটনের আপার ইস্ট সাইডে এপস্টেইনের বাড়িতে তাদের সেই বৈঠকের বিষয়টি সহকারীরাও নিশ্চিত করেছেন।

ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছে, এই বিষয়ে অনিল আম্বানির প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বার্তায় এপস্টেইন যখন আম্বানির পছন্দের নারীর ধরন সম্পর্কে জানতে চান, তখন এই ভারতীয় ধনকুবের হলিউডের প্রসঙ্গ টানেন। 

এপস্টেইন মজা করে লিখেছিলেন, “আশা করি তোমার পছন্দ মেরিল স্ট্রিপ নয়, সেক্ষেত্রে আমি কোনো সাহায্য করতে পারব না।” 

উত্তরে আম্বানি লেখেন, “বন্ধু, আমার রুচি তার চেয়ে ভালো। আমাদের পরবর্তী সিনেমাটি স্কারলেট জোহানসনের সঙ্গে।” 

সে বছরই আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্টের সহ-প্রযোজনায় ‘ঘোস্ট ইন দ্য শেল’ সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল।

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলাই ছিল এপস্টেইনের কৌশল। নথিতে দেখা গেছে, অনিল আম্বানির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার আগে তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ধর্মগুরু দীপক চোপড়াকে আম্বানি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। চোপড়া তাকে জানিয়েছিলেন, আম্বানিরা ‘অত্যন্ত ধনী’ এবং ‘পরিচয় পেতে খুব আগ্রহী’।

অনিল আম্বানি (৬৬) বর্তমানে নিজ দেশেও নানা সংকটে রয়েছেন। গত বুধবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলোকে অনিল আম্বানি ও তার কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ৪০ হাজার কোটি রুপির ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় যৌনবৃত্তির জন্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের সংগ্রহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও এপস্টেইন কীভাবে বিশ্বের সম্পদশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন, এই নতুন তথ্যগুলো তারই প্রমাণ দিচ্ছে। ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর জেলখানায় এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়।