১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা মাস্কের

সদ্য আইনে পরিণত হওয়া ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল’ কর বিল যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দেউলিয়া’ বানাবে বলে সতর্ক করেছেন মাস্ক।

ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা মাস্কের
‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jul 2025, 02:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:19 PM

যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। বিশ্বের এই শীর্ষ ধনী ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণা তহবিলের প্রধান অর্থদাতা ছিলেন। 

শনিবার মাস্কের এই ঘোষণায় ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ভাঙন আরও প্রশস্ত হল। সদ্য আইনে পরিণত হওয়া ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল’ কর বিল যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দেউলিয়া’ বানাবে বলে সতর্ক করেছেন মাস্ক। 

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স এ মাস্ক তার অনুসারিদের জিজ্ঞেস করেছিলেন একটি নতুন মার্কিন রাজনৈতিক দল তৈরি করা উচিত কি না, এর পরদিন এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন, “আজ, আপনাদের স্বাধীনতা আপনাদের ফিরিয়ে দিতে আমেরিকা পার্টি গঠিত হল।”

তিনি লিখেন, “আপনাদের প্রতি ২ জনের একজন নতুন একটি রাজনৈতিক দল চেয়েছেন আর আপনারা তা পাচ্ছেন!” 

রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প তার নিজের ধাঁচের ‘বিগ, বিউটিফুল’ কর হ্রাস ও ব্যয় বিলে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করার পর মাস্ক নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন। মাস্ক ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল’ বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিলেন। 

গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা ও স্যাটেলাইট কোম্পানি স্পেসএক্স এর মালিক মাস্ক বিশ্বের শীর্ষ ধনী। ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের জন্য তিনি লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেছিলেন। ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পর ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগ’ নামে নতুন একটি বিভাগের দায়িত্ব নেন মাস্ক এবং সরকারি ব্যয় কাটছাঁটে নেতৃত্ব দেন।   

কিন্তু তারপর থেকে নতুন বিল নিয়ে দ্বিমতে দুইজনের মধ্যকার সম্পর্কে ধারণাতীত দ্রুততায় চ্ছেদ ঘটে। 

এর আগে মাস্ক জানিয়েছিলেন, তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল শুরু করবেন এবং যে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের ‘বিগ, বিউটিফুল’ বিলে সমর্থন দেবেন তাদের আসনচ্যুত করার জন্য অর্থ ব্যয় করবেন। 

মাস্কের কোম্পানিগুলো ফেডারেল সরকার থেকে যে শত শত কোটি ডলার ভর্তুকি পায় ট্রাম্প গত সপ্তাহে তা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্কের বারবার ঝগড়ার পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে তাদের অধিপত্য ধরে রাখার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রিপাবলিকানরা। 

কী কারণে ট্রাম্পকে ভালোবাসার বদলে আক্রমণ শুরু করলেন তিনি, এমন প্রশ্নে মাস্ক বলেন, “ইতোমধ্যে বাইডেনের আমলের কাণ্ডজ্ঞানহীন দুই ট্রিলিয়ন ডলারের ঘাটতি বেড়ে আড়াই ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এটি এই দেশকে দেউলিয়া বানিয়ে দেবে।”  

মাস্কের ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্প অথবা হোয়াইট হাউস থেকে কেনো মন্তব্য আসেনি। 

ট্রাম্প ও মাস্কের এই দ্বন্দ্বকে প্রায়ই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তির ঝগড়া হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। তাদের এই ঝগড়ার পরিণতিতে বেশ কয়েকবার টেসলার শেয়ারের মূল্যের বড় ধরনের পতনের কারণ হয়েছে।