Published : 19 Jul 2025, 01:32 AM
ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর বাড়ি ও রাজনৈতিক সদরদপ্তরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পুলিশ শুক্রবার এই অভিযান চালায়।
তার পায়ে নজরদারি ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ব্রাজিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে বোলসোনারো জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্ট তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়।
২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের শাসনক্ষমতায় ছিলেন বোলসোনারো। বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে তার বিচার চলছে।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে তার প্রতিপক্ষ লুইস ইনাসিও লুলা ডি সিলভা’র দায়িত্ব গ্রহণ ঠেকাতে ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
ওদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যিনি নিজেও ২০২০ সালের নির্বাচনি ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, সম্প্রতি তিনি বোলসোনারোর পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে এও বলেন যে, বোলসোনারোকে আইনি ছাড় দেওয়া না হলে তিনি ১ অগাস্ট থেকে ব্রাজিলের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন।
ব্রাজিলের ওপর শুল্কের এই খড়গ এবং চাপ সৃষ্টি করতে বোলসোনারো তার ছেলে এদুয়ার্দোর সঙ্গে মিলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ব্রাজিলিয়ান পুলিশ। সুপ্রিম কোর্টের বিবৃতিতে বলা হয়েছে এমনটাই।
ট্রাম্প ব্রাজিলের পণ্যে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এই অভিযোগ ওঠে। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অ্যালেক্সান্ডার ডি মোরেস সাবেক প্রেসিডেন্ট বোলসোনারোর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালানো এবং তার ওপর কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত জানালেন।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, বোলসোনারোর বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকায় তার পায়ে একটি ইলেকট্রনিক ব্রেসলেট পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং যে কোনও বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্রাজিলে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস বা কনস্যুলেটে তার গমনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোরেস বলেছেন, বোলসোনারো একটি ‘ভিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে’ ব্রাজিলের আদালতে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তার এ পদক্ষেপ দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আক্রমণের সামিল।
ওদিকে, বোলসোনারো তার বিরুদ্ধে বিচারকে রাজনৈতিক নিপীড়ন আখ্যা দিয়েছেন। শুক্রবার বোলসোনারো সাংবাদিকদের বলেন, তিনি কখনও ব্রাজিল ছেড়ে যাওয়ার কথা চিন্তা করেননি। সুপ্রিম কোর্টের তার ওপর নজরদারির সর্বসাম্প্রতিক আদেশকে ‘চরম অপমান’ বলে মন্তব্য করেছেন বোলসোনারো।
বিচারপতি মোরেস তার রায়ে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উচ্চ শুল্কারোপের যে হুমকি দিয়েছেন, তার উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্রাজিলের বিচারবিভাগে হস্তক্ষেপ করার জন্য দেশে গুরুতর অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি করা।
বোলসোনারোকে কেবল বিদেশি কর্মকর্তাই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এমনকি ছেলে এদুয়ার্দোর সঙ্গেও তার যোগাযোগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বোলসোনারোর ছেলে এদুয়ার্দো ব্রাজিলের একজন কংগ্রেস সদস্য। তিনি তার বাবাকে সহায়তা করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগসাজশ করছেন।