Published : 29 Dec 2025, 07:10 PM
নেপালে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই জনপ্রিয় নেতা একটি জোট গঠন করেছেন। দলীয় কর্মকর্তা ও শ্লেষকদের মতে, এই জোট নেপালের পুরোনো ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র ও সাবেক র্যাপার বলেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামে পরিচিত, তিনি রোববার সাবেক টেলিভিশন উপস্থাপক ও রাজনীতিবিদ রবি লামিচানে-এর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির (আরএসপি)- তে যোগ দিয়েছেন। আরএসপি কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন।
জোটের চুক্তি অনুযায়ী,আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনে আরএসপি জয়ী হলে ৩৫ বছর বয়সি বালেন প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং ৪৮ বছর বয়সি লামিচানে দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
দুই নেতা সেপ্টেম্বরের গণআন্দোলনে উঠে আসা দুর্নীতিবিরোধী ও সংস্কারমূলক দাবিগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন।
সেপ্টেম্বরে নেপালজুড়ে তরুণদের নেতৃত্বে চলা ব্যাপক ‘জেন-জি’ আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগ করেন এবং বিক্ষোভ-সংঘর্ষে ৭৭ জন নিহতও হয়েছিলেন।
ওই আন্দোলনের পরই সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকির নেতৃত্বে নেপালে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিপিন অধিকারী বলেন, “তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বালেনকে দলে আনা রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ, তরুণ ভোটাদের হারানোর আশঙ্কায় ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দলগুলো চাপে রয়েছে।”
নেপালের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ।
সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভের পর ভোটার তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মানুষ, যাদের বড় অংশই তরুণ। বালেন শাহ বিক্ষোভের পর স্পটলাইটে এসেছিলেন, তরুণদের কাছে তিনি এক অঘোষিত নেতা।
তিনি সুশীলা কার্কির অন্তর্বর্তী সরকার গঠনেও সহায়তা করেছিলেন। তবে সমালোচকদের কারও কারও অভিযোগ, বালেন্দ্র আন্দোলনের সময় সরাসরি মাঠে খুব বেশি উপস্থিত ছিলেন না, বরং পর্দার আড়াল থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তিনি।
তারপরও কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তার জনপ্রিয়তা এবং একজন র্যাপার হিসেবে সাংস্কৃতিক পরিচিতি মানুষের কাছে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
গত তিন দশক ধরে নেপালের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি (ইউএমএল) এবং নেপালি কংগ্রেস।
তবে এবারের নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহ ও রবি লামিছানের জোট এই দুই শক্তির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রবি লামিচানে নিজে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত হলেও বর্তমানে তিনি সমবায় তহবিল অপব্যবহারের একটি মামলায় জামিনে রয়েছেন।
নেপালি কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রকাশ শরণ মাহাত এই জোটকে গুরুত্ব দেননি। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বালেন ও রবি লামিচানেকে ‘বিতর্কিত’ নেতা আখ্যা দেন।
মাহাত বলেন, শেষ পর্যন্ত ভোটাররা অভিজ্ঞ ও পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোকে বেছে নেবে বলেই তিনি মনে করেন।