১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজাগামী ফ্লোটিলার ১৩০ জনকে জর্ডানে পাঠিয়েছে ইসরায়েল

এই ফ্লোটিলা কর্মীদের মধ্যে বাহরাইন, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, ওমান, কুয়েত, লিবিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, জাপানসহ আরও নানা দেশের নাগরিক আছে বলে জানিয়েছে জর্ডান।

গাজাগামী ফ্লোটিলার ১৩০ জনকে জর্ডানে পাঠিয়েছে ইসরায়েল
সুমুদ ফ্লোটিল্লার নৌকাকে আসদোদ বন্দরে নিয়ে যায় ইসরায়েলের নৌবাহিনীর জাহাজ। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Oct 2025, 06:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:25 PM

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, গাজাগামী সুমুদ ফ্লোটিল্লা নৌবহর থেকে আটক হওয়া মানবাধিকার কর্মীদের ১৩০ জনকে মঙ্গলবার আলেনবি সেতু দিয়ে জর্ডানে পাঠিয়েছে ইসরায়েল।

জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানায়, এই ফ্লোটিলা কর্মীদের মধ্যে বাহরাইন, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, ওমান, কুয়েত, লিবিয়া, পাকিস্তান, তুরস্ক, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, জাপান, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও উরুগুয়ের নাগরিক রয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা পেট্রা জানিয়েছে, জর্ডানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তাদের সীমান্ত পারাপার নিশ্চিত করেছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলি সেনারা গাজায় ত্রাণ বহনকারী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিল্লা নৌবহরের ৪২টি নৌকা আটক করে ৪৫০-জনের বেশি কর্মীকে আটক করলে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে। 

এর আগে ইসরায়েল ইতালি ও তুরস্কে কয়েক ডজন ফ্লোটিলা কর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছিল। সোমবার ইসরায়েল ১৭১ জনকে ইউরোপের দুই দেশে পাঠায়। মঙ্গলবার তারা আরেক দফায় ১৩০ জনকে জর্ডানে পাঠাল।

এর আগে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক থাকার সময় অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ফ্লোটিল্লার মানবাধিকর্মীদের অনেকেই। সুইজারল্যান্ড ও স্পেনের কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, আটকাবস্থায় তারা অমানবিক পরিস্থিতিতে ছিলেন।

গত সপ্তাহে আটক হওয়া নয়জন সুইস কর্মী দেশে ফেরার পর জানান, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ঘুমাতে দেয়নি, পর্যাপ্ত খাবার-পানি দেয়নি, এমনকি কেউ কেউ মারধরেরও শিকার হয়েছেন। কাউকে লাথি মারা হয়েছে, আবার কেউ খাঁচায় বন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠন।

রোববার রাতে নিজ দেশে ফিরে স্প্যানিশ কর্মীরাও অভিযোগ করেছেন, তাদেরও নির্যাতন করা হয়েছে। শনিবার সুইডিশ কর্মীরা দাবি করেন, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গকেও ধাক্কা দিয়ে ইসরায়েলি পতাকা পরতে বাধ্য করা হয়েছে।

অন্যরা জানান, তাদের খাবার, পানি, ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সামগ্রী কেড়ে নেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।