Published : 18 Mar 2026, 07:15 PM
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের অবস্থানে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ বিষয়ে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনও তার অভিমত প্রকাশ করেননি।
বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি এসব বলেন, যা পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে এক ধর্মীয় বিধান বা ফতোয়ায় তিনি গণবিধ্বংসী পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ আনলেও ইরান তাদের কর্মসূচির উদ্দেশ্য কেবলই বেসামরিক বলে বারবার দাবি করে আসছে।
আরাকচি বলেছেন, ধর্মীয় ফতোয়া মূলত সংশ্লিষ্ট ইসলামি আইনবিদের ওপর নির্ভর করে। আর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির আইন বিষয়ক কিংবা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি এখনও পৌঁছাননি।
হরমুজ প্রণালি পরিচালনায় নতুন বিধিবিধান
চলমান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান ও আঞ্চলিক স্বার্থের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযানের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে পারস্য উপসাগরের সীমানায় থাকা দেশগুলো একটি নতুন প্রটোকল বা বিধিবিধান তৈরি করবে বলেই মনে করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস সরবরাহের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বর্তমানে বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের জন্য এই পথ দিয়ে যে ‘এক লিটার তেলও যেতে দেওয়া হবে না, তা তারা সাফ জানিয়েও দিয়েছে।
মঙ্গলবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এক টুইট বার্তায় জানান, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না।
যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথে জাহাজ চলাচল পাহারায় একটি আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করলেও নেটোর অধিকাংশ মিত্র দেশ এরই মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে। নেটোর সদস্য ফ্রান্স বলেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পরেই কেবল তারা যৌথ জোটের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
আরাকচি স্পষ্ট করে বলেছেন, পুরো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ এবং ইরানকে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেই কেবল যুদ্ধের ইতি ঘটবে।
আবাসিক এলাকার কাছে হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্রের
উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকায় ইরানের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আরাকচি এর দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপান। তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীগুলো শহর এলাকার কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ায় এমনটি ঘটেছে।
ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, “যেখানেই মার্কিন সেনারা জড়ো হয়েছে বা তাদের কোনো স্থাপনা ছিল, সেখানেই আঘাত হানা হয়েছে। এটা সম্ভব যে এর মধ্যে কিছু জায়গা শহরাঞ্চলের কাছাকাছি ছিল।”
ইরানের হামলায় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলো ‘মর্মাহত হয়েছে এবং তাদের জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত বা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন’ বলে স্বীকার করে নিয়েছেন আরাকচি। তবে এর দায়ও তিনি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে, কারণ ‘তারাই ২৮ ফেব্রুয়ারি এ যুদ্ধ শুরু করেছে’।