Published : 28 Mar 2025, 08:03 PM
মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং ৬ দশমিক ৮ মাত্রার পরাঘাতে এ পর্যন্ত ২৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ত্রাণ সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা কয়েকশ হতে পারে।
শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের তীব্রতায় কেঁপে উঠেছিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককও। সেখানে নির্মীয়মাণ একটি বহুতল ভবন ভেঙে পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও অন্তত ৮১ জন ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের হিসাবে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ের ১৭ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে, মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মান্দালয়ের একটি মসজিদ ভেঙে পড়ে ৩ জন নিহত হয়। ভূমিকম্পের সময় মসজিদে মানুষ নামাজ পড়ছিল। আর রাজধানী নিপিধোর একটি হাসপাতাল থেকে ২০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মিয়ানমারের দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন,আমরা অনুসন্ধান শুরু করেছি এবং ইয়াঙ্গনের আশেপাশে হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছি। এখন পর্যন্ত কোনও তথ্য মেলেনি বলে জানান তিনি।
ভূমিকম্প-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিয়ানমারে গত ২০ বছরের মধ্যে এত তীব্র ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি। মিয়ানমার জান্তা জরুরি অবস্থা জারি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যের জন্য আবেদন করেছে।
ওদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পয়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রাও দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন এবং বিশেষ করে রাজধানী ব্যাংকককে ‘বিপর্যয় এলাকা’ ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের রেল চলাচল শুক্রবারের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পের কারণে ব্যাঙ্ককে জরুরি বৈঠকে বসেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। ব্যাংককের গভর্নর অবশ্য এরই মধ্যে জানিয়েছেন যতটা আশঙ্কা করা হয়েছিল ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি ততটা হয়নি।
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রথমে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম এই ভেবে যে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়ত হয়ে থাকবে। তবে ততটা হয়নি।
তিনি বলেন, “ব্যাংককের ভবনগুলো মানসম্মতভাবে তৈরি। আমি মনে করি ক্ষয়ক্ষতি সামান্যই হয়েছে।” জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শুক্রবারের এই ভূমিকম্পের আঁচ লেগেছে চীনের কিছু এলাকায়ও। এনডিটিভি জানায়, চীনের ইউনান প্রদেশে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র বলেছে, এই ভূকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৯। তবে সেখানে কেউ নিহত হওয়ার খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকাতে কম্পন অনুভূত হয়েছে। কলকাতায় কোথাও কোথাও মৃদু কম্পন টের পাওয়া গেছে। কম্পন অনুভূত হয়েছে দিল্লি পর্যন্ত। কেঁপেছে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামও।