উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করতে দক্ষিণে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

দক্ষিণ কোরিয়ার বন্দরনগরী বুসানের একটি নৌ ঘাঁটিতে ইউএসএস রোনাল্ড রিগান ও এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপের জাহাজগুলো নোঙর করেছে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Sept 2022, 10:03 AM
Updated : 23 Sept 2022, 10:03 AM

উত্তর কোরিয়াকে সতর্কবার্তা পাঠাতে শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে প্রায় ৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ কোরিয়ায় উপস্থিত হয়েছে।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বুসানের একটি নৌ ঘাঁটিতে ইউএসএস রোনাল্ড রিগান ও এর সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপের জাহাজগুলো নোঙর করেছে।

উত্তর কোরিয়াকে চাপে রাখতে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশি সামরিক উপস্থিতির নতুন উদ্যোগে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিমানবাহী রণতরী পাঠানোকেই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মিত্রদের সম্পর্ক জোরদার এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এই (রণতরীর) সফরের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল, সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন স্ট্রাইক গ্রুপের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মাইকেল ডনেলি।

উত্তর কোরিয়ার জন্য বিমানবাহী এই রণতরীর উপস্থিতি কোনো বার্তা দিচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কী বার্তা সেটা কূটনীতিকদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। এটা আমাদের জন্য কৌশল ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চর্চার সুযোগ।”

তবে যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গার হুমকি মোকাবেলায় মিত্ররা যেন এগিয়ে আসতে পারে তা নিশ্চিতেই যৌথ মহড়ার নকশা করা হয়, বলেছেন তিনি। 

উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করতে আরও বেশি যৌথ মহড়া ও নানান সামরিক শক্তির প্রদর্শনীর ওপর জোর দিচ্ছেন দক্ষিণের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইয়ল।

পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধে উত্তর কোরিয়াকে রাজি করানোর আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর চলতি বছর পিয়ংইয়ং রেকর্ডসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। ২০১৭ সালের পর এ বছর থেকে তারা ফের পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে বলেও অনেক পর্যবেক্ষক মনে বরছেন।

উত্তর কোরিয়া এর আগে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েন ও যৌথ মহড়াগুলোকে ওয়াশিংটন ও সিউলের বৈরি নীতির প্রমাণ এবং ‘যুদ্ধের অনুশীলন’ অ্যাখ্যা দিয়েছিল।

ইউএসএস রোনাল্ড রিগানের উপস্থিতির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০১৮ সালের পর প্রথম কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী এল। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বাড়ানোর লক্ষ্যে ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া অনেকগুলো যৌথ মহড়া বাদ দিয়েছিল।

তাইওয়ান ঘিরে সংঘর্ষ বাধলে দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা সাড়ে ২৮ হাজারের মতো মার্কিন সেনার ভূমিকা কী হবে সাংবাদিকরা তা জানতে চাইলে ডনেলি বলেন, এ ধরনের প্রশ্ন তার ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারকদের জন্য, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো সমমনা মিত্রদের সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা সাত দশক ধরে বিরাজমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর চেষ্টার অন্যতম প্রধান অংশ।

দুই দেশের মধ্যে আসন্ন যৌথ মহড়া প্রসঙ্গে বিস্তারিত না বললেও ক্রুরা বুসান শহর ঘুরে দেখার সময় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীটি ‘বেশ কয়েকদিন’ বন্দরে নোঙর করা থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বন্দরে ভেড়ার কয়েক ঘণ্টা পর রণতরীটির ক্রুদের শহরে ঢোকার বাসে ওঠার আগে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক