Published : 11 May 2026, 02:47 PM
ইরাক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভিয়েতনামগামী আইয়োস ফানুরিওস ওয়ান নামের একটি অতি বৃহৎ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ইরানের নির্ধারিত রুটে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থাটি জানায়, মাল্টার পতাকাবাহী ট্যাংকারটি রোববার ওই জলপথ পার হয়।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ইরানি হামলা এড়ানোর জন্য তাদের অবস্থান শনাক্ত করার ডিভাইস (এআইএস) নিষ্ক্রিয় করে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী কেপলার ও এলএসইজি-কে উদ্ধৃত করে রয়টার্স খবরটি দিয়েছিল।
বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে এই জাহাজগুলোর মধ্যে আইয়োস ফানুরিওস ওয়ানের থাকার কথাও জানানো হয়। এর পাশাপাশি কিয়ারা এম নামের আরেকটি ভিএলসিসিও ছিল বলে জানিয়েছে তারা। উভয় ট্যাংকার ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত ইরাকি তেল বহন করছে।
১৭ এপ্রিল ইরাকের বসরা বন্দর থেকে কম ঘনত্বের অপরিশোধিত তেল নেওয়ার পর আইয়োস ফানুরিওস এর আগে দুইবার হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল।
কিয়ারা এমের গন্তব্য সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেনি রয়টার্স।
তৃতীয় ট্যাংকারটির নাম বসরা এনার্জি। এই ভিএলসিসিটি আবু ধাবির ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির জিরকু টার্মিনাল থেকে ১ মে ২০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়েছিল। কেপালারের দেওয়া তথ্য জানিয়েছে, এই ট্যাংকারটি বুধবার হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের মধ্যে দিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হতো। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে আর এতে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
এই প্রণালিটি নিরাপদে পার হতে ইরান একটি রুট নির্ধারণ করে দিয়ে তাদের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান জারি করেছে।