২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের প্রস্তাবে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কিছু গ্রিনল্যান্ডবাসী উৎসাহের সঙ্গে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছেন, কিন্তু অন্যরা বলেছেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।’

ট্রাম্পের প্রস্তাবে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Jan 2025, 05:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:33 AM

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ফের উৎসাহিত হয়ে উঠেছেন, এ নিয়ে বিভিন্ন বেপরোয়া মন্তব্যও করেছেন তিনি। তার এসব মন্তব্যে ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষের মতো গ্রিনল্যান্ডবাসীরও প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তবে সেগুলোর সবাই নেতিবাচক নয় কিছু ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও পেয়েছেন ট্রাম্প। 

রয়টার্স জানিয়েছে, কিছু গ্রিনল্যান্ডবাসী উৎসাহের সঙ্গে ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছেন, কিন্তু অন্যরা বলেছেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।”  

আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ট্রাম্প। তার আগে তিনি সোমবার বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই কৌশলগভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। এরপর মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারে নিতে তিনি সামরিক বা অথনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বাতিল করতে রাজি হননি। 

গ্রিনল্যান্ড দিতে না চাইলে ডেনমার্কের ওপর খুবই চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। 

ট্রাম্পের এসব বাগড়ম্বরের মধ্যেই তার বড় ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ব্যক্তিগত সফরে গ্রিনল্যান্ড গেছেন।

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুউকের বাসিন্দা মিখেইল লুদাসিং ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় তিনি গায়ের জোরে কথা বলছেন। যখন তিনি বলেন শক্তি প্রয়োগ করে তিনি আমাদের নিয়ে নেবেন, আমার মনে হয় না তখন তাকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু আছে।” 

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নিলস নিলসন বলেন, “আমি মনে করি এটা বাড়াবাড়ি। গ্রিনল্যান্ডকে কেনা যাবে না।” 

কিন্তু অন্যরা বলছেন, মাত্র ৫৭ হাজার জনসংখ্যার দেশ গ্রিনল্যান্ডের জন্য পরাশক্তির সঙ্গে জোট বাঁধলেই ভালো হবে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ইয়েন্সে ওস্টামেন বলেন, “আমাদের একটি বড় শক্তির অংশীদারই হওয়া উচিত কারণ গ্রিনল্যান্ড একটি ধনী দেশ, এখানে আমাদের সবকিছু আছে।” 

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউট ইল বাসিন্দাদের শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি গ্রিনল্যান্ডের সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ডেনমার্কের কাছ থেকে পুরোপুরি স্বাধীন হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও জোর দিয়ে জানিয়েছেন।

আবার গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন‘ লেখা ক্যাপ পরে ট্রাম্প জুনিয়রকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। 

গ্রিনল্যান্ডের পত্রিকা দৈনিক সেমিচিয়াক তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করে, “ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের জন্য উষ্ণ শুভেচ্ছা, তবে সীমিত পরিসরে।”

ডেনমার্কের পার্লামেন্টে গ্রিনল্যান্ডের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক সিওমুট পার্টির সদস্য আকি-মাতিলদা হু-ডামের মতে, তাদের দেশের ভবিষ্যত সম্পর্কে গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গ্রিনল্যান্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়াই তা প্রমাণ করে।”

আরও পড়ুন: 

গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য হবে না

ট্রাম্পের হুমকির মুখে ডেনিশ রাজা ও গ্রিনল্যান্ড নেতার বৈঠক

জবরদস্তি গ্রিনল্যান্ড নিতে চেয়ে ফ্রান্সের কড়া হুঁশিয়ারিতে ট্রাম্প

পানামা খাল, গ্রিনল্যান্ড পেতে 'সামরিক শক্তি ব্যবহার' করতে পারেন ট্রাম্প