১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনা তেল শোধনাগারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্যের নির্দেশ বেইজিংয়ের

জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অগ্রগতি সংক্রান্ত স্বার্থ সুরক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘স্বীকৃতি দেওয়া, কার্যকর করা ও মেনে চলা যাবে না’, বলেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

চীনা তেল শোধনাগারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্যের নির্দেশ বেইজিংয়ের
চীনের দালিয়ানের চেংজিং দ্বীপে হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা। ফাইল ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 May 2026, 04:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

ইরান থেকে তেল কেনার অভিযোগে ৫টি চীনা শোধনাগারের ওপর দেওয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্যে নির্দেশ জারি করেছে বেইজিং। 

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের এই শোধনাগারগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো আর্থিক লেনদেনের বাইরে চলে গেছে; অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করলে ওয়াশিংটন তাদেরও শাস্তি দিতে পারবে।

এর প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া এক বিবৃতিতে শনিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক রীতিনীতির লঙ্ঘন’ করে দেওয়া এ নিষেধাজ্ঞা ‘অনুচিতভাবে’ চীনা প্রতিষ্ঠান ও তৃতীয় দেশের ব্যবসা বাধাগ্রস্ত করছে। 

এই ‘নিষেধাজ্ঞা অমান্যের নির্দেশ’ জারি করার কথা জানিয়ে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অগ্রগতি সংক্রান্ত স্বার্থ সুরক্ষায় এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘স্বীকৃতি দেওয়া, কার্যকর করা ও মেনে চলা যাবে না’। 

“চীনের সরকার ধারাবাহিকভাবেই আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ও জাতিসংঘের অনুমোদনহীন এসব একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে,” বিবৃতিতে চীনা এ মন্ত্রণালয় এসব বলেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। 

হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (দালিয়ান) শোধনাগার এবং চারটি তথাকথিত ‘টি-পট’ শোধনাগার—শ্যানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল ও শ্যানডং শ্যাংজিং কেমিক্যালের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে বলেছে তারা। 

গত ২৪ এপ্রিল নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় হেংলিকে ‘তেহরানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ক্রেতা’ আখ্যা দিয়ে বলেছিল, অপরিশোধিত তেল কেনার মাধ্যমে এ চীনা শোধনাগারটি ইরানের সামরিক বাহিনীকে কোটি কোটি ডলার যোগান দিচ্ছে। 

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাকি যে চারটি শোধনাগারের নাম বলেছে, ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর অন্য অনেক চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।  

চীন তার তেলের অর্ধেকেরও বেশি পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে আমদানি করে। এর সিংহভাগই যায় ইরান থেকে। 

বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যের খোঁজখবর রাখা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানের রপ্তানি তেলের ৮০ শতাংশের বেশিই চীন কিনেছে।  

চীনের ‘টি-পট’ বা ছোট ছোট শোধনাগারগুলো সাধারণত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এগুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও সিনোপ্যাকের মতো রাষ্ট্রমালিকানাধীন শোধনাগারের তুলনায় অনেক কম।

তা সত্ত্বেও এ ‘টি-পট’ শোধনাগারগুলো চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম খুঁটি। এ শোধনাগারগুলো সাধারণত ইরান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর কাছ থেকে খুব সস্তায় অপরিশোধিত তেল নেয়। 

চীনের মোট তেল পরিশোধন সক্ষমতার এক-চতুর্থাংশই এ ধরনের ‘টি-পটের’ ওপর নির্ভরশীল। এগুলো খুবই কম লাভে চলে, কখনও কখনও লোকসানও হয়। সম্প্রতি দেশে চাহিদা কমে যাওয়ায় এ শোধনাগারগুলোর অবস্থা আগের তুলনায় করুণ হয়ে পড়েছে। 

এর সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত হওয়ায় ‘মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ’ অবস্থা দাঁড়িয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা পরিশোধিত পণ্যের সঠিক উৎসের নামও লিখতে পারছে না, এর ফলে তাদের বিক্রিও অনেক কমে গেছে, বলছে আল জাজিরা।