Published : 10 Jul 2023, 07:40 PM
রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনারের যোদ্ধারা চুক্তি অনুযায়ী বেলারুশে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করায় বেশ খানিকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড।
সীমান্ত শক্তিশালী করছে দেশটি। যে সীমান্তে একসময় ছিল মাত্র কয়েকটি পিলার আর কাঠের ফাঁড়ি, সেখানে এখন মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে তোলা হয়েছে ধাতব বেড়া। বসানো হচ্ছে থারমাল ক্যামেরা এবং স্পটলাইট।জোরদার করা হচ্ছে নিরাপত্তা।
বিবিসি জানায়, কেবল ওয়াগনারই নয়, বেলারুশ থেকে শরণার্থী প্রবেশ ঠেকানোও পোল্যান্ডের সীমান্ত শক্তিশালী করার একটি উদ্দেশ্য। বেলারুশ দুইবছর আগে থেকেই হাজার হাজার শরণার্থীকে সীমান্ত পেরিয়ে পোল্যান্ডে যেতে উৎসাহতি করে আসছে, যাকে ওয়ারশ’ বলছে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ তৎপরতা।
এর মধ্যে যোগ হয়েছে ওয়াগনার নিয়ে নতুন শঙ্কা। এ সপ্তাহে লিথুনিয়ায় নেটো সম্মেলনে পোলিশ সরকার সতর্ক করে বলেছে, আরও সমস্যা তৈরি করতে ওয়াগনার বাহিনীকে কাজে লাগানো হতে পারে। তাই নিরাপত্তা বাড়াতে সীমান্ত অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তা পাঠাচ্ছে তারা।
পোল্যান্ডের সীমান্তের স্থানীয় এক প্রহরী মাইকল বুরা বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ বেলারুশের কার্যকলাপ আগে থেকে আঁচ করা যায় না। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় হুমকি।
“নতুন যে কোনও পরিস্থিতির জন্য আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ওয়াগনার একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে। কেউ আসলে জানে না তারা কেন সেখানে যাচ্ছে এবং কিসের প্রস্তুতি নিচ্ছে”, বলেন তিনি।
গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্র হয়ে উঠেছিল প্রিগোজিনের ওয়াগনার বাহিনী।
কিন্তু গত ২৪ জুন হঠাৎ করে প্রিগোজিন রাশিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেন এবং রাতারাতি ইউক্রেইন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার দক্ষিণের একটি নগরী দখলের পর মস্কো অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।
পরদিন দিনভর যাত্রা করে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে মস্কোর ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিল বিদ্রোহী ওয়াগনার বাহিনী।
তবে শেষ পর্যন্ত বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় ওই বিদ্রোহের অবসান হয় এবং বিদ্রোহীদের কোনো সাজার মুখে পড়তে হবে না বরং তাদের রাশিয়া ছেড়ে বেলারুশে চলে যেতে দেওয়া হবে এই শর্তে একটি চুক্তি হয়।
বিদ্রোহের পর থেকে প্রিগোজিন ও তার বাহিনী ঠিক কোথায় অবস্থান করছে তা নিয়ে নিশ্চিত কোনওকিছু এখনও জানা যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো বলেছিলেন, প্রিগোজিন এবং তার যোদ্ধারা এখনো রাশিয়ায় অবস্থান করছে। এরপর শনিবার ওয়াগনারের এক শীর্ষ কমান্ডার বলেন, বেলারুশে যাওয়ার আগে প্রিগোজিনের নির্দেশে ওয়াগনার যোদ্ধারা বর্তমানে ছুটি কাটাচ্ছে।