১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের খার্ক দ্বীপকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ করার কাল্পনিক এআই ভিডিও পোস্ট

কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরও খার্ক দ্বীপে এ ধরনের কোনো হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ইরানের খার্ক দ্বীপকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ করার কাল্পনিক এআই ভিডিও পোস্ট
ইরানের তেল কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ। ছবি: মর্ডান ডটএজেড

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 05:25 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এআই দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের তেল কেন্দ্র খার্ক দ্বীপ চূর্ণবিচূর্ণ করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

জুলাইয়ের পর থেকে দেশ দুটি প্রথম পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়ানোর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিওটি পোস্ট করেন।  

কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরও খার্কে এ ধরনের কোনো হামলা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

ট্রাম্পের পোস্ট খার্ক দ্বীপের জন্য কোনো হুমকি, নাকি সেখানে কোনো হামলা চালানো হচ্ছে, তা পরিষ্কার হয়নি। 

নিজের সামাজিক সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভিডিওটি পোস্ট করে ট্রাম্প শুধু বলেছেন, “খার্ক দ্বীপকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়া হচ্ছে!!! প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।”

কিন্তু তিনি আর বিস্তারিত কিছু জানাননি। হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দাপ্তরিক সময়ের বাইরে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। ট্রাম্পের পোস্ট নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। 

রয়টার্স এআই দিয়ে পরিবর্তন করা ছবি শনাক্ত করতে পারে এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করে নিশ্চিত হয়েছে, পোস্টে যে ভিডিওটি ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে নাটকীয় বিস্ফোরণ দেখানো হয়েছে, সেটি সম্ভবত কৃত্রিমভাবে তৈরি করা। 

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের ৯০ শতাংশ খার্ক দ্বীপ থেকে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে আর তাতে দেশটির অর্থনীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। 

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না কিন্তু যে কোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেবে। 

সোমবার কিরগিজস্থান সফরে রওনা হওয়ার আগে তিনি এ মন্তব্য করেছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে ট্রাম্পের পোস্টের আগে না পড়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন তা পরিষ্কার না। 

যুক্তরাষ্ট্র খার্কের প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার পূর্বে লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান সোমবার ভোরে জর্ডানে দুটি মার্কিন সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমান ঘাঁটির মার্কিন লক্ষ্যস্থলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। 

লারাকে হামলা চালাতে মার্কিন বাহিনী জর্ডানের বিমান ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করেছে বলে এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটায় আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা ও তাদের হেলিকপ্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে।   

সোমবার বার্তা সংস্থা মেহর আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, রেভল্যুশনারি গার্ড একটি মার্কিন ড্রোনকে গুলি করে নামাতে বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ড্রোনটি পারস্য উপসাগরে পড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে।  

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে একটি সুপারট্যাঙ্কার দুটি নৌ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাইন বিস্ফোরণের পর জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় আর সেটি পুরোপুরি থেমে যায়। 

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার চেয়ে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’কেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছিল। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলা শান্তি আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পর্যদুস্ত করার প্রচেষ্টা জোরদার করে যাকে তারা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

কিন্তু নতুন করে এসব পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ছয় মাসের মাইলফলক পার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনাগুলি ঘটে।

আরও পড়ুন: 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

জর্ডানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যস্থলে ইরানের পাল্টা হামলা

লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা