তুরস্কের সঙ্গে সংঘাত অবসানে বড় পদক্ষেপ, অস্ত্র পোড়াল পিকেকে কুর্দি যোদ্ধারা
কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে’র ৩০ যোদ্ধা ইরাকের উত্তরাঞ্চলে একটি গুহার মুখে তাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখে সেগুলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।
তুরস্কের সঙ্গে চার দশকের সশস্ত্র সংঘাতের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) যোদ্ধারা অস্ত্রসমর্পণের প্রথম প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের অস্ত্র পুড়িয়েছে।
শুক্রবার কুর্দি বিদ্রোহী গোষ্ঠী পিকেকে’র ৩০ যোদ্ধা ইরাকের উত্তরাঞ্চলে একটি গুহার মুখে তাদের অস্ত্র নামিয়ে রেখে সেগুলো জ্বালিয়ে দেয়।
তুরস্কের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের কুর্দি বিদ্রোহ অবসানের পথে এ এক বড় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইরাকের সুলাইমানিয়া নগরীর ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জাসানা গুহায় হয় এই আনুষ্ঠানিকতা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ যোদ্ধারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে একে একে বিশাল একটি কড়াইয়ে একে-৪৭ রাইফেল, কার্তুজের বেল্ট এবং অন্যান্য বন্দুক ঢালছে। তারপর সেগুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
পিকেকে’র এই অস্ত্রসমর্পণের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন অনেকেই। তুরস্ক এবং ইরাকের সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিতে অস্ত্রসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আর তা দেখতে সুপরিচিত একটি পর্যটনস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল একদল সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এমনকি তুরস্কের কুর্দিপন্থি বিরোধীদল ডেম পার্টির সদস্যদেরকেও।
পিকেকে এই অস্ত্রসমর্পণকে এক ‘ঐতিহাসিক এবং গণতান্ত্রিক’ পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা আপনাদের উপস্থিতিতে স্বেচ্ছায় আমাদের অস্ত্র ধ্বংস করেছি। আমাদের সদিচ্ছা এবং প্রত্যয়ের একটি ধাপ হিসাবেই আমরা এটি করেছি।”
ওদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান বলেছেন, এই আয়োজন আমাদের সন্ত্রাস-মুক্ত তুরস্ক গড়ার লক্ষ্য পূরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” বিবিসি লিখেছে, নিরস্ত্রীকরণের যে প্রক্রিয়ার সূচনা হল, তা গোটা গ্রীষ্মজুড়েই চলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাধীন ও সার্বভৌম কুর্দিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে কুর্দি পিকেকে গোষ্ঠী তুরস্কের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে গোষ্ঠীটি নিষিদ্ধ হয়।
তবে গত মে মাসে পিকেকে-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা, তুরস্কের জেলে বন্দি আবদুল্লাহ ওসালানের ডাকে সংগঠন ভেঙে দিয়ে অস্ত্রসমর্পণ করা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী লড়াই অবসানের সিদ্ধান্ত নেয় গোষ্ঠীটি।
আবদুল্লাহ ওসালান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চার দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের পথ ছাড়বে কুর্দি যোদ্ধারা। এর পরই পিকেকে নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক ভাবে অস্ত্রসমর্পণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
১৯৯৯ সালে আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছিল তুরস্কের সেনারা। তারপর থেকে তিনি জেলবন্দি থাকলেও ২৬ বছর ধরে কুর্দিদের মধ্যে তার প্রভাব কমেনি। উল্টো তার সহযোদ্ধা ও অনুগামীরা লড়াই চালিয়ে গেছে।
তুরস্কের সেনাবাহিনীর হামলায় গত চার দশকে প্রায় ৪০ হাজার কুর্দি নিহত হয়েছে। তারপরও কখনও স্বাধীন রাষ্ট্র গড়তে পারেননি কুর্দিরা।
