১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাকিস্তানে নামলেন আরাকচি, তেহরানের প্রস্তাব নিয়ে আশায় ট্রাম্প

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা ইরানি প্রতিনিধিদের নেই।

পাকিস্তানে নামলেন আরাকচি, তেহরানের প্রস্তাব নিয়ে আশায় ট্রাম্প
ইসলামাবাদে সেরিনা হোটেলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের আব্বাস আরাকচি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Apr 2026, 10:15 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:29 PM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। 

তার এ সফর ৮ সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে খানিকটা আশাবাদ তৈরি করেছে বলে লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে যে যুদ্ধের সূচনা করেছে তা এরই মধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, বিশ্ব বাজারকে করে রেখেছে তুমুল অস্থির। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেটাতে একটি প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কিন্তু সেই প্রস্তাবে কী আছে, তিনি এখনও তা জানেন না। 

কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি তা বলতে চাই না, তবে আমরা সেইসব লোকজনের সঙ্গেই কাজ করছি, যারা দায়িত্বে আছেন।” 

এদিকে ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা ইরানি প্রতিনিধিদের নেই। 

আরাকচির ইসলামাবাদ সফরের খবরের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে মার্কিন বিশেষ ‍দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনারকে পাঠানোতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। 

কিন্তু ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলছেন, আরাকচির এবারের সফরে কেবল পাকিস্তানের কাছে ইরানের উদ্বেগগুলোই জানানো হবে।  

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ৪০ দিনের টানা বোমাবর্ষণ এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ তেহরান বন্ধ করে রাখায় দুই পক্ষই এখন চড়ামূল্যের এক অচলাবস্থা পার করছে। ইরানের তেল রপ্তানি অনেকটাই বন্ধ হয়ে আছে, এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রলের দাম পৌঁছেছে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে। 

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট জানান, আরাকচির সঙ্গে কথা বলতে শনিবার সকালে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন উইটকফ ও কুশনার। 

খুবই আশাবাদী কণ্ঠে লেভিট বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের দিক থেকে খানিকটা অগ্রগতি দেখতে পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দুই-একদিনের মধ্যে আরও অগ্রগতি হবে বলেও ওয়াশিংটন আশা করছে।  

ইরানের সঙ্গে চলতি মাসের শুরুর দিকে পাকিস্তানে হওয়া অসফল প্রথম দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেওয়া মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও পাকিস্তান সফরের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন, বলেছেন লেভিট। 

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য চাইলেও তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউসের দিক থেকে সাড়া মেলেনি, বলছে রয়টার্স।

সম্ভাব্য আলোচনার লক্ষ্যে মার্কিন লজিস্টিকস ও নিরাপত্তা দল আগেই ইসলামাবাদে পৌঁছে গেছে বলে পাকিস্তানের একাধিক সূত্র আগে জানিয়েছিল।  

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরাকচির ইসলামাবাদ সফরের কথা নিশ্চিত করেছে। শহরটির কেন্দ্রস্থলজুড়ে সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে।

ইসলামাবাদে নেমেই আরাকচি সোজা সেরিনা হোটেলে গিয়ে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বলে জানিয়েছে দুটি সরকারি সূত্র। এ হোটেলেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল।

কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, বলেছে কাতারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা।  

আরাকচি এর আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছিলেন, দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং আঞ্চলিক নানান ইস্যুতে পরামর্শ করতে তিনি পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন। 

সফরে যুদ্ধ বন্ধের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আলাপ-আলোচনা হবে বলে পরে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। 

এর আগে শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ রয়েছে ইরানের। 

“তাদের কেবল একটি কাজই করতে হবে, তা হলো অর্থপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ করা,” বলেছেন তিনি। 

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের ‘অনাগ্রহে’ শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। 

পরে ট্রাম্প একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান, যেন আলোচনা ফের শুরু করতে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। 

এদিকে শুক্রবারও তেলের দামে অস্থিরতা দেখা গেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে থিতু হয়েছে। মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ফিউচারের দাম ১% কমে পৌঁছেছে ৯৪ দশমিক ৮৮ ডলারে।