Published : 26 Jun 2026, 08:41 PM
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা শক্তিশালী দু’টি ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা একলাফে বেড়ে ৫৮৯ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছে ২, ৯৮০ জন মানুষ। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পর থেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ভেনেজুয়েলার উদ্ধারকর্মীরা। তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীদের দল যোগ দিয়ে উদ্ধারকাজ চালানোর পর হতাহতের এই পরিসংখ্যান সামনে এল।
৮০ টি সুইস উদ্ধারকর্মীদল এবং মেক্সিকোর ত্রাণকর্মীরা উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। স্পেনের উদ্ধারকর্মীরা এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগালসহ আরও নানা দেশের উদ্ধাকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো আরও হতাহতদের খুঁজে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ বলেছেন, “মানুষের জীবন বাঁচাতে আমরা অবিরাম কাজ করেছি।” আন্তর্জাতিক সহায়তা ও উদ্ধারকারী দলের কাজের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “আমরা বেশকিছু মানুষের জীবন রক্ষা করেছি।”
তিনি জানান, অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো ‘লা গুয়াইরা’ রাজ্যে উদ্ধারকাজে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ, এ অঞ্চলটিই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় উদ্ধারকারী দলগুলো রাজধানী কারাকাস এবং লা গুয়াইরায় রাতভর অনুসন্ধান চালিয়েছে। ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে মানুষজনকে সাহায্যের জন্য আকুতি জানাতে শুনেছে তারা। ধ্বংসস্তুপ থেকে এক নারীকে জীবিতও উদ্ধার করা হয়।
লা গুয়াইরার এক চিকিৎসক বিবিসি-কে জানান, রাজ্যের প্রধান দুটো হাসপাতাল আহত মানুষে ভরে গেছে। সেখানে চিকিৎসা সরঞ্জামেরও মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে।
ভেনেজ়ুয়েলার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অনেককে। তাদের বেশিরভাগকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যারদিকে ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে পর পর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। দ্বিতীয়টির ৭ দশমিক ৫। ১২৬ বছরের মধ্যে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল এটি।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, “ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ২১৪ টি পরাঘাত হয়েছে।” আতঙ্কে কারাকাস এবং শহরতলির বহু মানুষ খোলা আকাশের নীচে রাত কাটাচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার বহু জায়গাতেই বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। স্কুলগুলো আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, স্কুলভবনগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয় শিবির হিসাবে ব্যবহার করছে প্রশাসন।