১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন কে এই হিশাম?

বৃষ্টির লাশের সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Apr 2026, 12:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:29 PM

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের লাশ উদ্ধারের পর গ্রেপ্তার তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহর অতীত এখন সামনে আসছে।

ইউএসএফের সাবেক শিক্ষার্থী ২৭ বছর বয়সী হিশামকে পুলিশ রোববার গ্রেপ্তার করার পর সোমবার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

ফ্লোরিডা টুডে লিখেছে, প্রাথমিকভাবে হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, প্রমাণ লোপাট এবং বেআইনিভাবে মৃতদেহ রাখা বা সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। 

তবে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ যোগ করা হয়। এখন তার বিরুদ্ধে ইউএসএফের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী বাংলাদেশি লিমন ও নাহিদা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিখোঁজের এক সপ্তাহ বাদে হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শেরিফ দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “স্টেট অ্যাটর্নি অফিসে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে, হিশামের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে বৃষ্টির সন্ধান অব্যাহত রয়েছে।”

সিবিএস নিউজ লিখেছে, বৃষ্টি বেঁচে নেই বলে পুলিশের তরফে পরিবারকে জানানো হয়েছে। আবুগারবিয়াহর বাড়িতে পাওয়া রক্তের পরিমাণ দেখে বৃষ্টিও হত্যার শিকার হয়েছেন বলে পুলিশ ধারণা করছে।

মার্কিন নাগরিক আবুঘারবিয়েহ ইউএসএফ ক্যাম্পাস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে একটি অ্যাপার্টমেন্টে লিমনের সঙ্গে থাকতেন। তারা কতদিন ধরে একসাথে থাকতেন বা একে অপরকে কতদিন ধরে চিনতেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফ্লোরিডা টুডে লিখেছে, লিমন ও বৃষ্টিকে বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করা হলেও হিশাম ও বৃষ্টির মধ্যে কী সম্পর্ক ছিল তা জানা যায়নি।

হিশাম বর্তমানে ইউএসএফের শিক্ষার্থী বা কর্মী নন; তবে তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধিত ছিলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তিনি ম্যানেজমেন্টে স্নাতক করার জন্য পড়াশোনা করছিলেন। তার অপরাধমূলক ইতিহাস রয়েছে, যার মধ্যে ২০২৩ সালের চুরি ও শারীরিক আঘাতের অভিযোগ রয়েছে। সেই বছরই তার এক আত্মীয় তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার দুটি মামলা করেছিলেন।

কেন হিশাম গ্রেপ্তার

স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে হিশামের পারিবারিক বাড়িতে পারিবারিক বিবাদের খবর পেয়ে পুলিশ ডাকা হয়। 

গোয়েন্দারা হিশামের পরিবারকে সেই বাড়ি থেকে নিরাপদে বের করে আনতে সক্ষম হন, কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানান।

পরে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে আসে এবং কোনো গোলযোগ ছাড়াই হিশামকে বাড়ি থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়। দুই হাত উপরে তুলে খালি গায়ে কোমরে একটি টাওয়েল পেঁচিয়ে বাইরে আসেন হিশাম।

তাকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারীরা জানান, তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। আগের দিনও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর হিশাম কথা বলা বন্ধ করে দেন। 

এদিকে সোমবার সকালে ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচে লিমনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। মৃত্যুর কারণ জানতে তার মরদেহ কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসে নেওয়া হয়। 

ময়নাতদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি। তদন্তকারীরা এখনো বৃষ্টির মরদেহের সন্ধান করছেন, যার অংশ হিসেবে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচের পানিতে ডুবুরি দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

পরিবারের এক সদস্য ১৭ এপ্রিল বিকাল ৫টার কিছু আগে লিমন ও বৃষ্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানান। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগ এবং হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের অফিস নিখোঁজ হওয়ার খবর নথিবদ্ধ করে।

২৭ বছর বয়সী লিমন ও বৃষ্টি পরস্পরের বন্ধু। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন, আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। 

লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ থেকে ফ্লোরিডার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লিমন ও বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে চার বছরের। তারা বিয়ে করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দ্বিমত ছিল না। তবে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেই তারা বিয়ের কাজটি সারতে চেয়েছিলেন।