Published : 25 Nov 2025, 01:58 PM
ভেনেজুয়েলার ‘কার্টেল দে লস সোলস’কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপের আওতায় গোষ্ঠীটির উপর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কিত অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন।
এই গোষ্ঠীটির ‘কোনো অস্তিত্ব নেই’, এমনটি দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্তির পরিকল্পনাকে ‘হাস্যকর’ অভিহিত করে ওয়াশিংটনের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার; জানিয়েছে রয়টার্স।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্টেল দে লস সোলসকে বা কার্টেল অব দ্য সানকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক আমদানি করার কথিত ভূমিকার জন্য বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন (এফটিও) হিসেবে মনোনীত করবে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলতে থাকায় মাদুরো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র কার্টেল দে লস সোলসকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের বৈধতা তৈরির উপায় খুঁজছে, এমন ধারণা থেকে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো গোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার আইন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমোদন দেয় না।
যুক্তরাষ্ট্র কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার ক্যারিবীয় উপকূলে ও লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে সন্দেহভাজন মাদক নৌযানগুলোতে প্রাণঘাতী হামলা চালাচ্ছে।
শনিবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আসছে দিনগুলোতে ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত অভিযানের নতুন পর্ব শুরু করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ওই গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করায় তা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অনেকগুলো বিকল্প নিয়ে এসেছে’।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক পাঠাতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অপরাধী সংগঠন ট্রেন দে আরাগুয়ার সঙ্গে কাজ করে কার্টেল দে লোস সোলেস।
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরো কার্টেল দে লোস সোলেসকে ‘নেতৃত্ব দেন’। মাদুরো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মাদুরোকে শীর্ষ ‘মাদক-পাচারকারী’ আখ্যা দিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে তথ্যের জন্য অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্র পুরস্কারের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি ডলার করেছিল।
ভেনেজুয়েলা মাদকচক্র নির্মূলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ ওয়াশিংটনের। যুক্তরাষ্ট্রে যে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানাইল মাদক ঢোকে তার জন্য কারাকাসের দায় আছে বলেও মত ট্রাম্পের।
বিবিসি লিখেছে, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেন্টানাইল যাওয়ার কোনো প্রমাণই নেই। ফেন্টানাইল মূলত তৈরি হয় মেক্সিকোতে, উপকরণের সিংহভাগ যোগাড় হয় এশিয়া থেকে।
ভেনেজুয়েলার সরকার তাদের দেশ থেকে কিছু পরিমাণ কোকেন পাচার হয় বলে স্বীকার করে নিলেও পুরো অঞ্চলে আরও অনেক বড় বড় পাচারের কেন্দ্র রয়েছে। কোকেনের সিংহভাগ উৎপাদিত হয় কলম্বিয়া, পেরু ও বলিভিয়ায়।
আরও পড়ুন:
ভেনেজুয়েলায় 'নতুন অভিযান শুরু করবে' যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির পর ভেনেজুয়েলায় ফ্লাইট বাতিল করেছে কয়েকটি এয়ারলাইন্স