১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভেনেজুয়েলায় ‘নতুন অভিযান শুরু করবে’ যুক্তরাষ্ট্র

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর হতে যাওয়া একটি ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো ও মাদুরোর সম্পদে আঘাত হানার আইনি অনুমোদন দেবে।

ভেনেজুয়েলায় ‘নতুন অভিযান শুরু করবে’ যুক্তরাষ্ট্র
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Nov 2025, 01:37 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

যুক্তরাষ্ট্র আসছে দিনগুলোতে ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত অভিযানের নতুন পর্ব শুরু করার জন্য প্রস্তুত বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন চার মার্কিন কর্মকর্তা। 

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকারের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই এ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন পক্ষগুলো।  

এই প্রতিবেদনে যে চার মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন পদক্ষেপের সংবেদনশীলতার কারণে তারা সবাই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন। 

তবে তাদের বক্তব্য সত্ত্বেও নতুন অভিযান কবে শুরু হচ্ছে তার নির্দিষ্ট সময় বা এই অভিযানের আওতা কতোটুকু তা রয়টার্স নির্ধারণ করতে পারেনি। অভিযান শুরু করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তাও নিশ্চিত হতে পারেনি। 

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকার মধ্যেই দেশটির উপকূলীয় ক্যারিবীয় সাগর অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ আসন্ন, কয়েক সপ্তাহ ধরে এ ধরনের খবরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

আরও পড়ুন: 

যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারির পর ভেনেজুয়েলায় ফ্লাইট বাতিল করেছে

ওই মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে দুইজন জানিয়েছেন, গোপন অভিযান সম্ভবত মাদুরোর বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের প্রথম অংশ হতে পারে।  

এসব বিষয় নিয়ে রয়টার্সের করা প্রশ্নগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) হোয়াইট হাউজের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। শনিবার মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊধ্র্বতন কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত কোনো কিছুই বাতিল করে দেননি।  

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাদের দেশে মাদকের প্রবাহ আসা বন্ধ করার জন্য এবং এর জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার প্রতিটি উপাদান ব্যবহার করতে প্রস্তুত।”  

যুক্তরাষ্ট্রে আসা অবৈধ মাদকে মার্কিন নাগরিকদের মৃত্যু হচ্ছে আর পেছনে মাদুরো আছেন বলে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের। মাদুরো মাদক কারবারের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তারপরও ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত যুদ্ধের বিকল্প উপায়গুলো বিবেচনা করে দেখছে। 

দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যেসব বিকল্প বিবেচনাধীন তার মধ্যে মাদুরোকে উৎখাত করার প্রচেষ্টাও আছে।  

২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর অভিযোগ, ট্রাম্প তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চাইছেন। ভেনেজুয়েলার সামরিক বাহিনী ও নাগরিকরা এ ধরনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করবে বলে প্রত্যয় জানিয়েছেন মাদুরো। 

রোববার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের ৬৩তম জন্মদিন। এর আগের দিন শনিবার রাতে তিনি তার জীবনভিত্তিক একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকের প্রিমিয়ার উপলক্ষ্যে কারাকাসের প্রধান নাট্যশালায় উপস্থিত হয়েছিলেন।     

ক্যারিবীয় অঞ্চলে কয়েক মাস ধরেই জোরদার সামরিক অবস্থান গড়ে তুলছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর জন্য সিআইএকে অনুমতি দিয়েছেন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইন্সগুলোকে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় উড়ার সময় একটি ‘সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির’ বিষয়ে সতর্ক করেছে আর তাদের সাবধান থাকার আহ্বান জানিয়েছে। 

এরপর তিনটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা শনিবার ভেনেজুয়েলা থেকে ফ্লাইট ছাড়ার সূচি বাতিল করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রে মাদক আমদানির ক্ষেত্রে তথাকথিত ভূমিকার জন্য কার্টেল দে লস সোলস নামের একটি গোষ্ঠীকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। সোমবার থেকে এ কালো তালিকাভুক্তি কার্যকর হবে হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। 

মাদুরো কার্টেল দে লস সোলসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের। কিন্তু মাদুরো অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।  

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ওই গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করায় তা ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামনে অনেকগুলো বিকল্প নিয়ে এসেছে’।   

ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামো ও মাদুরোর সম্পদে আঘাত হানার আইনি অনুমোদন দেবে। তবে এর পাশাপাশি তিনি সম্ভাব্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। 

কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কথোপকথনের কথা স্বীকার করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। এই কথোপকথন মার্কিন অভিযানের সময় ও মাত্রার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব রাখবে কি না তা পরিষ্কার হয়নি।  

মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন পুয়ের্তো রিকো দ্বীপের বিমান ঘাঁটিতে অনেকগুলো অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড, সঙ্গে অন্তত আরও আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত ডুবোজাহাজ এবং ১০ হাজারেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে।

এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী এখন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু এই অভিযান চালানোর জন্য যে পরিমাণ শক্তি দরকার তার তুলনায় ক্যারিবীয় অঞ্চলে অনেক বেশি জোরদার সামরিক সমাবেশে গড়ে তুলেছে তারা।   

ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের লাতিন আমেরিকা সংলগ্ন উপকূলে সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২১টি সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে আঘাত হেনেছে মার্কিন বাহিনী আর তাতে অন্তত ৮৩ জন নিহত হয়েছেন।