Published : 26 Feb 2026, 02:09 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তি উপস্থাপন করে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি হুমকি।
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের তৃতীয় পর্বের আলোচনায় বসার কথা। এর একদিন আগে বুধবার মার্কিন কর্মকর্তা ইরানি হুমকি নিয়ে সতর্কতা জানালেন।
ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে সম্ভাব্য আঘাত হানার আগে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অন্যতম বড় সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে।
মঙ্গলবার নিজের স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, দেশটি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী আবার শুরু করেছে, ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে কাজ করছে আর রাস্তার পাশে পেতে রাখা যেসব বোমায় মার্কিন সেনা ও বেসামরিকরা নিহত হচ্ছে সেগুলোর জন্য দায়ী।
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচী নিয়ে দীর্ঘদিন চলে আসা বিরোধ সমাধানে যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায় তাহলে সেটি ইরানের জন্য ‘অত্যন্ত খারাপ দিন’ হবে।
আক্রান্ত হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়ে রেখেছে ইরান।
ইরান পারমাণবিক কর্মসূচী ‘পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে’
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্র সেন্ট কিটস ও নেভিসে এক সফরে থাকাকালে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্পের মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।
রুবিও বলেন, “তাদের পারমাণবিক কর্মসূচী ধ্বংস হওয়ার পর তাদের ফের শুরুর চেষ্টা না করতে বলা হয়েছিল আর তারা এখানে। আপনারা তাদের দেখতে পাবেন সবসময় এটির উপাদান পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে। তারা এই মুহূর্তে সমৃদ্ধকরণ করছে না, কিন্তু তারা এমন একটি জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করছে শেষ পর্যন্ত যেখানে তারা যেতে চায়।”
ট্রাম্প গত বছরের জুনে ইরানে আঘাত হানার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর জুলাইতে তিনি দাবি করেন, তারা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘ধ্বংস’ করে দিয়েছেন।
কিন্তু অতি সম্প্রতি তার সহযোগীরা দাবি করেছেন, ইরান একটি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি আছে।
রুবিও বলেছেন, ইরানের অনেক বেশি সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে যেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের জন্য হুমকি। আর তারা এমন অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারবে।
তিনি বলেন, “পারমাণবিক কর্মসূচীর বাইরে তাদের এসব প্রচলিত অস্ত্র আছে যেগুলো শুধু আমেরিকাকে ও আমেরিকানদের আক্রমণ করার জন্য নকশা করা হয়েছে, যদি তারা সেটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা যখন কথা বলছি, এখনই তাদের কাছে ইতোমধ্যে এমন অস্ত্র আছে যা ইউরোপের অধিকাংশ অঞ্চলে পৌঁছতে পারবে।”
রুবিও বলেন, জেনিভার বৈঠকে তেহরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আছে যা একটি ‘বড় সমস্যা’।
তিনি যোগ করেন, তিনি বৃহস্পতিবারের আলোচনাকে ‘পরবর্তী আলোচনার সুযোগ’ ছাড়া অন্য কিছু বলে চিহ্নিত করতে চান না। তবে তিনি অগ্রগতি আশা করেন।
তিনি বলেন, “আশা করি এগুলো ফলপ্রসূ হবে তবে শেষ পর্যন্ত আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচীর চেয়েও বেশি কিছু নিয়ে আলোচনা করতে হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে বড় মজুদ আছে ইরানের।
বুধবার এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেনিভার আলোচনার ক্ষেত্রে মার্কিন অবস্থান নিয়ে বলেছেন, “নীতিটি খুব সহজ: ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারবে না।”