১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় যুদ্ধের প্রতিবাদ করায় প্রায় ৮০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদেরকে বহিস্কার করা, এক থেকে তিন বছরের জন্য কোর্স থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি কারও কারও ডিগ্রি বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

গাজায় যুদ্ধের প্রতিবাদ করায় প্রায় ৮০ শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাটলার লাইব্রেরিতে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ। ছবি: রয়টার্স।

রয়টার্স

Published : 23 Jul 2025, 10:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:26 PM

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করায় প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

তাদেরকে বহিস্কার করা, কোর্স থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি কারও কারও ডিগ্রি বাতিলেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি অ্যাপারথিড ডাইভেস্ট’ (সিইউএডি)।

তারাই এক বিবৃতিতে প্রায় ৮০ শিক্ষার্থীর ওই শাস্তি হওয়ার কথা জানায়। বলা হয়, সোমবার বিকালে শিক্ষার্থীদেরকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় যে, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তাদেরকে এক থেকে তিন বছরের জন্য কোর্স থেকে বরখাস্ত করা হবে কিংবা বহিষ্কার করা হবে।

ক্যম্পাসে ফিরতে চাইলে শিক্ষার্থীদেরকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়, অন্যথায় বহিস্কার হতে হবে বলে জানানো হয় চিঠিতে।

ওদিকে, মঙ্গলবার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গত মে মাসে বাটলার লাইব্রেরিতে বিক্ষোভ এবং ২০২৪ সালে ‘অ্যালামনাই উইকেন্ড’-এ ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জেরে শিক্ষার্থীদেরকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। 

“শিক্ষা কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-নীতির লঙ্ঘন। আর এ ধরনের লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পরিণতি ভোগ করাটাও অনিবার্য”, বলা হয় বিবৃতিতে। 

তবে শিক্ষার্থীদের সংগঠন সিইউএডি জানিয়েছে, তারা থামবে না। ফিলিস্তিনের মুক্তির জন্য আন্দোল-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গাজায় ইসরায়েলের অবিরাম হামলা এবং সাধারণ মানুষ হত্যার প্রতিবাদে হার্ভার্ড-সহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গত বছর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল কলাম্বিয়াতেও।

ট্রাম্প সরকারের অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইহুদি-বিদ্বেষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছে না। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ বন্ধে কী কী করণীয় সে বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে কিছু শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দ কমায় ট্রাম্প প্রশাসন। এর কয়েকমাস পর বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নিল।

সূত্র: এনবিসি নিউজ/ আল-জাজিরা