ব্রাসেলসে নেটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ব্রিটিশ, ফরাসি ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন।
Published : 04 Apr 2025, 09:39 PM
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে ইউক্রেইনে যুদ্ধবিরতি করার আলোচনায় কালক্ষেপণের অভিযোগ করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি।
ইউক্রেইনে দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক সপ্তাহ ধরে যে চেষ্টা চালিয়ে এসেছে, তাতে দ্রুতই রাশিয়া সাড়া দিক এমন দাবি উঠেছে।
শুক্রবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ব্রিটিশ, ফরাসি ও জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ করেন।
মার্চ মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিইভ এতে সম্মতি জানিয়েছিল। তবে পুতিন পুরো ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হননি।
কেবল জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধে সম্মতি দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরে ইউক্রেইন তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। আবার রাশিয়াও পাল্টা অভিযোগ করে ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে।
পুতিনের সরকারি বাসভবন ক্রেমলিনের এক কর্মকর্তা সোমবার বলেন, রাশিয়া ইউক্রেইনে তাদের তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টাকে একটা ‘লম্বা প্রক্রিয়া’ হিসাবেই দেখে।
শুক্রবার নেটো সদরদপ্তরে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি সাংবাদিকদেরকে বলেন, “পুতিন বিভ্রান্তি অব্যাহত রেখেছেন, সময়ক্ষেপণ করে যাচ্ছেন।
“তিনি এখন যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ইউক্রেইনে সাধারণ মানুষ এবং জ্বালানি স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আপনাকে দেখছি ভ্লাদিমির পুতিন। আপনি কি করছেন তা আমরা জানি।”
ওদিকে, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পুতিনের শান্তিচুক্তি আলোচনা অন্তঃসারশূন্য প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কিছুই নয়। নতুন নতুন দাবি তুলে তিনি কালক্ষেপণ করছেন।”
কানাডা ও এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাসহ আরও অনেকেই রাশিয়ার জন্য যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার একটি সময়সীমা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সইয়ে তাদের আন্তরিক থাকার প্রমাণ দাবি করুক এমনটিই চাইছে ইউরোপীয় মিত্রদেশগুলো। আর এই প্রেক্ষাপটেই কোনও কোনও দেশ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নেওয়ার জন্য রাশিয়াকে সময় বেঁধে দেওয়ার কথা বলছে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মস্কোকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জবাব দিতে হবে। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) কঠোর পরিশ্রম করেছে। মধ্যস্থতার চেষ্টা নিয়ে এগিয়ে গেছে এবং একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব দিয়েছে।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার জন্য রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে একটি সময়সীমা ঘোষণার বিষয়ে কোনও মতৈক্য হয়নি।
“তবে যুদ্ধবিরতি যত তাড়াতাড়ি হয় ততই ভাল- এটি সবাই স্বীকার করেছে। সবাই এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, রাশিয়ার আরও বেশি কিছু করা দরকার। রাশিয়ার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়া উচিত।”
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেইনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক কিনা তা যুক্তরাষ্ট্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জেনে যাবে। তিনি বলেন, “আমি আশা করি তারা (রাশিয়া) আন্তরিক। আর যদি এটা কালক্ষেপণ হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অন্তহীন আলোচনার ফাঁদে পা দেবেন না।”
রাশিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী কিনা তা দেখতে আমরা তাদেরকে পরীক্ষা করছি। তাদের কাজ দেখছি। কথা নয়। তাদের কাজই বলে দেবে তারা সিরিয়াস কিনা।”
কয়েকটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়ার অভিপ্রায় নিয়ে হোয়াইট হাউজ উদ্বিগ্ন। যদিও ট্রাম্প প্রকাশ্যে একথাই বলে আসছেন যে, পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।