Published : 10 Aug 2026, 10:21 PM
ইসরায়েলের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনিদের হতাশা ও ধ্বংসলীলাকে কাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে গাজাকে দশকের পর দশক ধরে ধ্বংসস্তূপ করে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান গিয়োরা এইল্যান্ড।
রোববার ইসরায়েলের ১০৩এফএম বেতারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গিয়োরা বলেন, গাজার পুনর্গঠন ইসরায়েলের স্বার্থ পরিপন্থি।
তিনি বলেন, “গাজা পুনরায় গড়ে ওঠাতে ইসরায়েলের কোনও স্বার্থ নেই। তার চেয়ে বরং এই ভূখন্ড প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধ্বংসস্তূপ হয়ে থাকুক, সেটিই আমাদের জন্য ভাল।”
“গাজায় যত বেশি হতাশা ও ধ্বংস থাকবে ততই সেটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের (হামাসের হামলা) ঘটনার স্মারক হিসেবে বছরের পর বছর দাঁড়িয়ে থাকবে। সেটিই ইসরায়েলের জন্য ইতিবাচক”, বলেন গিয়োরা।
ধর্মনিরপেক্ষ ইসরায়েলি জাতীয়তাবাদী এবং বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদ অ্যাভিগডোর লিবারম্যানের সমর্থক গিয়োরা এইল্যান্ড রাজনৈতিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরোধী। তারপরও গাজা নিয়ে তার দেওয়া পরামর্শগুলো প্রায়ই নেতানিয়াহুর প্রকাশ্যে ঘোষিত নীতিমালাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনাকে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস-পন্থি হিসেবে বর্ণনা করেছেন গিয়োরা। রোববার নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উদাহরণ টেনে গিয়োরা বলেন, যুদ্ধে পরাজিত পক্ষ খেসারত দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হেরে যাওয়া জার্মানি তাদের ২৫ শতাংশ ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল।
এই তুলনা করার মাধ্যমে গিয়োরা যুক্তি তুলে ধরেন যে, গাজার ভেতরে ইসরায়েলি বাহিনীর টেনে দেওয়া ‘ইয়োলো লাইন’ ইসরায়েলকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই ধরে রাখতে হবে। এই সীমানা ইসরায়েল ক্রমেই বাড়াচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত গাজা ভূখণ্ডের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
গিয়োরা বলেন, এর পাশাপাশি ইয়োলো লাইনের জন্যও ভূখণ্ডের প্রয়োজন আছে, যা কোনও অবস্থাতেই হাতছাড়া করা যাবে না। এটি যুদ্ধ, শত্রুরা হেরে গেছে এবং আমাদের জায়গা প্রয়োজন। বসতি স্থাপনের জন্য নয়, বরং নিরাপত্তা বলয় হিসেবে যেখানে ইসরায়লের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) থাকতে পারবে।