১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলে সরল মমতার ছবি, তৃণমূল ভবনে উড়ল লাল পতাকা

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বাম সরকারের পতনের পর তৃণমূল দখলে নিয়েছিল সিপিআইএম-এর শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ- এর কার্যালয়। সেটিই এবার ফেরত দিল তৃণমূল।

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলে সরল মমতার ছবি, তৃণমূল ভবনে উড়ল লাল পতাকা
তৃণমূল ভবনে উড়ছে বাম দলের লাল পতাকা। ছবি: জি নিউজ

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 May 2026, 07:13 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:19 PM

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের দখল করে রাখা পুরনো পার্টি কার্যালয় বামেদের (সিপিআইএম) হাতে ফেরত দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় কার্যালয় ভবনে তৃণমূলের পতাকা ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে বামেদের লাল পতাকা উড়ানো হয়।

২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে বাম সরকারের পতন ও  তৃণমূল সরকার গঠনের পর খাদিনামোড়ে জিটি রোডের পাশে কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)- সিপিআইএম এর শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ এর কার্যালয় দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল। সিটু কার্যালয় তখন হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল ভবন।

তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার গত ১৫ বছর ধরে ভবনটি দলের কার্যালয় হিসাবে ব্যবহার করেন। জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই কার্যালয়ে বৈঠক করত। জেলার তৃণমূলের রাজনৈতিক কার্যকলাপ চলত এখান থেকেই।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হুগলিতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জেতার পর খাদিনামোড়ের কার্যালয়টি দখল হয়েছিল। তবে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় সেটি পুনরুদ্ধার করে তৃণমূল।

তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর হুগলির চুঁচুড়ার সেই খাদিনামোড় ও ব্যান্ডেল লিচু বাগানে দখল করে রাখা কার্যালয়ও ফিরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। বুধবার খাদিনামোড়ের কার্যালয় সিটু (সিআইটিইউ) নেতৃত্বের হাতে তুলে দেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। 

তিনি বলেন, “আমি অন্য ধরনের মানুষ। সব দলই থাকবে, সবারই তো অধিকার আছে।” যাদের কার্যালয় তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হল বলে জানান অসিত। তারপর তৃণমূলের সেই ভবনেই উড়ানো হয় লাল পতাকা৷

সিপিআইএম এর নেতারা বলেছেন, “বহুবছর ধরে এই কার্যালয় আমাদের ছিল। বাম সরকার পরিবর্তনের পর  সেই কার্যালয় তৃণমূল দখল করে। সেটি ফিরে পাওয়া আমাদের অধিকার।”

সিটু নেতা গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূল বলেছিল বদলা নয় বদল চাই। অথচ আমাদের কার্যালয় দখল হয়েছিল। সেদিন আমরা রুখতে পারিনি। আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অসিত মজুমদার বুঝেছেন কার্যালয়টি ফিরিয়ে দিতে হবে।”

ওদিকে, চুঁচুড়ার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, “কার কখন বোধোদয় হবে বোঝা যায় না। ওই কার্যালয়কে বিধায়ক নিজের কার্যালয় বলে দাবি করতেন। আমরা কোনওরকম দখলদারিত্বে বিশ্বাসী নই। যাদের যা, তাদের তা ফিরিয়ে দিলে সেটা দৃষ্টান্ত হয়।”