১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে সৌদি আরব জড়াবে? যা বললেন পাকিস্তানি মন্ত্রী

খাজা আসিফ বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের চুক্তিটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’। ‘আক্রমণাত্মক’ নয়।

ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ হলে সৌদি আরব জড়াবে? যা বললেন পাকিস্তানি মন্ত্রী
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ফাইল ছবি। ছবি: এনডিটিভি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Sep 2025, 03:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:19 PM

পাকিস্তান ও সৌদি আরব গত সপ্তাহে যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তাতে ‘কৌশলগত পারস্পরিক সহযোগিতার’ উপাদান থাকায় ভারত যদি যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে ইসলামাবাদকে বাঁচাতে রিয়াদ এগিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। 

শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন বলে জানিয়েছে ডন, এনডিটিভি।

“হ্যাঁ, অবশ্যই, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই,” ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ বেঁধে গেলে তাতে সৌদি আরব জড়াবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানি খবরের চ্যানেল জিও টিভিকে আসিফ এমনটাই বলেছেন।

তিনি মার্কিন নেতৃত্বাধীন নেটো জোটের ‘ধারা ৫’ এর সঙ্গে সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তির তুলনাও টেনেছেন। নেটোর ওই ধারাটি ‘সম্মিলিত প্রতিরক্ষা’ নামে পরিচিত, যেখানে বলা হয়েছে জোটের কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে ওই আক্রমণকে জোটের অন্যদের ওপর আক্রমণ বলেও ধরা হবে।

আসিফ বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের চুক্তিটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’। ‘আক্রমণাত্মক’ নয়।

“যদি কোনো আগ্রাসন হয়, তা সৌদি আরব কিংবা পাকিস্তান, যার বিরুদ্ধেই হোক না কেন, আমরা যৌথভাবে তা মোকাবেলা করবো,” জিও টিভিকে এমনটাই বলেছেন তিনি।

আলাদা করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, “কোনো আগ্রাসনের জন্য এই চুক্তিকে ব্যবহারের ইচ্ছা আমাদের নেই। কিন্তু এই দুই পক্ষের কেউ যদি হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে স্পষ্টতই ব্যবস্থাগুলো কার্যকর হওয়া শুরু হবে।” 

তবে এই ‍চুক্তির আওতায় সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রও পাবে কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আসিফও দুই দিন দুই কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ডন। 

বৃহস্পতিবার রাতে টেলিভিশনে এক টক শো-তে পাকিস্তানের এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, “‍চুক্তি অনুযায়ী আমাদের সব ধরনের সক্ষমতা তাদেরও পাওয়ার সুযোগ থাকবে।”

যদিও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের যে নীতি, তাতে তারা ওয়ারহেড কেবল ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহারের কথাই বলেছে। অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের কথা তাদের নীতিতে নেই। 

পরে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসিফ চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিছু থাকার কথা বেমালুম অস্বীকার করেন। বলেন, “পরমাণু অস্ত্রের কথা বিবেচনাতেই নেই।”  

পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি বদলেছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শাফকাত আলি খান বলেন, “নীতিটি সময়ের সঙ্গে বদলায়, বদলানো অব্যাহত আছে। নীতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলার জন্য আমি এখানে আসেনি, তবে আমাদের অবস্থান সুপরিচিত।”

যৌথ এ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদি আরব পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের ছায়াতলে গেল কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সৌদি এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, “এটি একটি বিস্তৃত প্রতিরক্ষা চুক্তি, যার মধ্যে সামরিক সব উপায়ই আছে।”

গত সপ্তাহের শেষদিকে রিয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সফরের সময় এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে যে কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ বলে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

এই চুক্তির প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকার বলেছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে চুক্তিটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক রূপ, নয়া দিল্লি চুক্তির প্রভাবগুলো খতিয়ে দেখছে।  

সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তির ফলে পাকিস্তান একদিকে সৌদি আরবের কাছ থেকে দৃঢ় অর্থনৈতিক সহায়তা আদায় করে নিতে পারবে, অন্যদিকে ‘আরব দেশগুলোর জোটের’ সম্ভাবনাও তৈরি করল। আর সৌদি আরব পেল ‘পারমাণবিক ঢাকনা’।

তবে কেবল ভারতই নয়, ইরান ও ইসরায়েলের ওপরও এই চুক্তির নানামুখী প্রভাব আছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৃহত্তর আরব জোট গঠন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ বলেছেন, “ওই দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি।

“আমি আগেভাগে এর উত্তর দিতে পারি না। কিন্তু আমার মনে হয় একত্রে নিজেদের অঞ্চল রক্ষা করা এখানকার দেশগুলো ও মানুষদের, বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার,” বলেন তিনি।