১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৪০ শিশুসহ ১১২ জনের লাশ দাফন

২০২৩ সালের নভেম্বরে বিমান হামলা চালিয়ে গাজা সিটির একটি আবাসিক ব্লক গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী, তাতে নিহত হয় ৩০৮ জন।

গাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার ৪০ শিশুসহ ১১২ জনের লাশ দাফন
একদল প্রতিবেশী ও গোত্রটির বেঁচে যাওয়া সদস্যরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সমান করা একটি স্থানে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে মৃতদেহগুলো এনে রাখা হয়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 04:49 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ইসরায়েলি হামলায় গাজার একটি আবাসিক ব্লকের সব বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর থেকে আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে ধ্বংসস্তূপের নিচে অন্তত ৪০টি শিশুসহ ১১২ জনের মৃতদেহ পড়ে ছিল। সেগুলোর অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করার পর মঙ্গলবার কবর দিয়েছে গাজাবাসী।  

২০২৩ সালের নভেম্বরে গাজা সিটির ওই আবাসিক ব্লকটি বিমান হামলায় গুড়িয়ে দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী। এতে সাবরার বেদুইন বংশোদ্ভূত ফিলিস্তিনি গোত্র ‘আল-হাসায়না’ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আবু শারিয়া নামেও পরিচিত বৃহত্তর আল-হাসায়না পরিবারের ৩০৮ জন ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের ওই ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়। এ দিন রাতে গাজা সিটির অন্যতম পুরনো এলাকা সাবরায় এ হামলার সময় ওই অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকটির সবাই ঘুমিয়ে ছিল।

এর আগে প্রায় অর্ধেক মৃতদেহ উদ্ধার করে কবর দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫৩টি মৃতদেহ এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিল।  

প্রায় তিন বছর পর উদ্ধারকারী দলের প্রায় ৪০ সদস্য ১৭ দিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করে ধ্বংসস্তূপ তন্ন তন্ন করে খুঁজে দেহাবশেষগুলো বের করে আনেন। যে অবশেষগুলো তারা বের করে আনেন সেগুলো নিখোঁজ ১১২ জনের বলে শনাক্ত হয়। 

একদল প্রতিবেশী ও গোত্রটির বেঁচে যাওয়া সদস্যরা মঙ্গলবার ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সমান করা একটি স্থানে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে মৃতদেহগুলো এনে রাখা হয় ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।  

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একে গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় গণ-জানাজা হিসেবে অভিহিত করেছে।  

জানাজার পর লোকজন লাশবাহী কফিনগুলো কাঁধে তুলে নিয়ে গোরস্থানের দিকে রওনা হয়। কফিনের সামনের অংশগুলো নিহত নারী, পুরুষ ও শিশুদের ছবি দিয়ে সাজানো ছিল। 

আল-হাসায়না গোত্রের বেঁচে থাকা সদস্য তাইসির আল-হাসায়না বলেন, “এই দিনটি শোকের আর তিন বছর পরও এটি আমাদের ক্ষতগুলোকে ফের তাজা করে তুলেছে। দিনটি আমাদের নারী ও শিশুদের জীবনে আবার শোক নিয়ে এসেছে। তবে আমাদের সান্ত্বনা এটাই যে আমরা বিশ্বাস করি তারা শহীদ হিসেবে আল্লাহর সান্নিধ্যে রয়েছেন।” 

রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ২০২৩ সালের নভেম্বরে এমন কোনো ইসরায়েলি সামরিক বিবৃতি খুঁজে পায়নি যেখানে এই হামলার বিষয়ে তাদের ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে। আর এই ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে করা রয়টার্সের অনুরোধেও ইসরায়েলি বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এই নিহতদের সবার মৃতদেহ মর্গে নেওয়ার পর নিবন্ধন করা হয় আর তারপর দাফন করা হয়। কিন্তু আরও আট হাজারের মতো নিহত ফিলিস্তিনি গাজার ধ্বংসস্তূপগুলোর মধ্যে চাপা পড়ে আছে বলে বিশ্বাস করা হয়।