মালয়েশিয়ার নতুন রাজা সুলতান ইব্রাহিম

কুয়ালালামপুরের জাতীয় প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অভিষেক হয় তার। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার ১৭তম রাজা হন তিনি।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 31 Jan 2024, 06:53 AM
Updated : 31 Jan 2024, 06:53 AM

মালয়েশিয়ার নতুন রাজা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য জোহরের সুলতান ইব্রাহিম।

বুধবার কুয়ালালামপুরের জাতীয় প্রাসাদে এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অভিষেক হয় তার। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার ১৭তম রাজা হন তিনি।

দেশটিতে রাজতন্ত্রের ভূমিকা অনেকটা আনুষ্ঠানিক। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রাজতন্ত্রের প্রভাব বেড়েছে। যে বিবেচনামূলক ক্ষমতা প্রায় কখনোই ব্যবহার করতে হয়নি রাজনৈতিক অস্থিশীলতার লাগাম টেনে ধরতে রাজাকে এখন তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় রাজতন্ত্রের এক অভিনব ব্যবস্থা বিদ্যমান। দেশটির নয়টি রাজ পরিবারের প্রধান পর্যায়ক্রমে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য মালয়েশিয়ার রাজা হন, যিনি মালয় ভাষায় ‘ইয়াং দি-পাতুয়ান আগং’ বা ‘রাজধিরাজ’ নামে পরিচিত।   

আল-সুলতান আব্দুল্লাহ সুলতান আহমদ শাহ এর স্থলে নতুন রাজা হলেন সুলতান ইব্রাহিম (৬৫) । ২০১৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পাঁচ বছর রাজা হিসেবে দায়িত্বপালনের পর নিজ রাজ্য পাহাংয়ের প্রধান হিসেবে ফিরেছেন তিনি।

রাজতন্ত্রকে মূলত রাজনীতির ঊর্ধ্বের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু নতুন রাজা সুলতান ইব্রাহিম তার স্পষ্টবাদিতা ও অনন্য ব্যক্তিত্বের জন্য সুপরিচিত। তিনি প্রায়ই দেশের রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে কথা বলেন। 

সুলতান ইব্রাহিমের আবাসন থেকে শুরু করে খনি পর্যন্ত বিস্তৃত ব্যাপক ব্যবসা আছে। তার সংগ্রহে বহু বিলাসবহুল গাড়ি ও মোটরবাইক আছে।

অভিষেকের আগে তিনি সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি একজন সক্রিয় রাজা হতে চান। তিনি প্রস্তাব করেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রলিয়াম ন্যাশিওনাল ও দেশটির দুর্নীতি দমন সংস্থা সরাসরি রাজার কাছে প্রতিবেদনে পেশ করুক।

তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে হাই স্পিড রেল সংযোগ প্রকল্প পুনরুজ্জীবনে নিজের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছিলেন।

তার এসব বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ফেডারেল সংবিধানকে মেনেই সব ধরনের মতামত নিয়ে আলোচনা চালানো যায়। 

রাজার মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার পরামর্শ মতোই চলার কথা। তবে ফেডারের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারও কিছু বিবেচনামূলক ক্ষমতা আছে। পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা বলে যাকে তিনি বিবেচনা করবেন তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করার ক্ষমতা আছে তার।