ভ্যাপ আমদানি নিষিদ্ধ করবে অস্ট্রেলিয়া

একক ব্যবহারের ভ্যাপ বা ই-সিগারেট তৈরি, বিজ্ঞাপন দেওয়া ও সরবরাহ বন্ধ করতে দেশে নতুন আইনও চালু করা হবে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2023, 06:20 PM
Updated : 28 Nov 2023, 06:20 PM

শিশুদের মধ্যে নিকোটিনের আসক্তি কমানোর চেষ্টায় আগামী জানুয়ারি থেকে একবার ব্যবহারযোগ্য ভ্যাপ বা ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ করতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া।

একক ব্যবহারের ভ্যাপ তৈরি, বিজ্ঞাপন দেওয়া ও সরবরাহ বন্ধ করতে দেশে নতুন আইনও চালু করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় ধূমপান ছাড়ার উপায় হিসেবে ভ্যাপ বাজারজাত করা হলেও এটি নিকোটিন নির্ভরতার নতুন প্রজন্ম তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ভ্যাপ বা ই-সিগারেট হচেছ, লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ডিভাইস, যেগুলোতে নিকোটিন, কৃত্রিম গন্ধ ও অন্যান্য রাসায়নিক তরল ভরা কার্টিজ থাকে।

২০২১ সাল থেকে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ই-সিগারেট বা নিকোটিন ভ্যাপ কেনা বা আমদানি করা বেআইনি ঘোষণা করা হলেও দেশজুড়ে ভ্যাপ আসক্তির হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

এ বছরের শুরুর দিকে সিডনি ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক-চতুর্থাংশ কিশোর-কিশোরী ভ্যাপে আসক্ত। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার ক্যানসার কাউন্সিল চ্যারিটির গবেষণায় দেখা গেছে, একই বয়সের ১০ কিশোর মধ্যে ৯ জনই নিকোটিন ভ্যাপ সেবনকে সহজ মনে করছে।

অস্ট্রেলিয়ায় ভ্যাপ আমদানিতে নিষেধাজ্ঞায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্ক বাটলার। তিনি বলেন, “আমাদের তরুণদের মধ্যে ভ্যাপ সেবনের হার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি ঠেকাতে সব রাজ্যের সরকার একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বাটলার জানান, ডিসপোজেবল ভ্যাপ আমদানি নিষিদ্ধ করা হবে ১ জানুয়ারি থেকে এবং মার্চের মধ্যে রিফিলযোগ্য নন-থেরাপিউটিক ভ্যাপও দেশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে থেরাপিউটিক ভ্যাপ আমদানিকারক ও প্রস্তুতকারকদেরও তাদের পণ্যের স্বাদ, নিকোটিনের মাত্রা এবং প্যাকেজিং সম্পর্কিত সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে। 

ভ্যাপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনও যথেষ্ট তথ্য পাওয়া না গেলেও জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্যাপ ব্যবহারের কারণে ফুসফুসের ক্রনিক রোগ ও হাঁপানি হয়।