১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ‘ব্রেক থ্রুর খোঁজে’ পাকিস্তান

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ‘কিছু ভালো লক্ষণ’ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে টোল কার্যকর করে তাহলে কোনো সমাধানই হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় ‘ব্রেক থ্রুর খোঁজে’ পাকিস্তান
যুদ্ধের শুরুর দিকে মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মিনাবের স্কুলটি। ফাইল ছবি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 May 2026, 02:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:40 PM

তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুদ ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দূরত্ব না ঘুচলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ শেষের শর্ত নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির সঙ্গে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে পশ্চিম এশীয় দেশটির গণমাধ্যম। 

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তা ইরানিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দুইদিন পর এ বৈঠক হল বলে ইরানি আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ইসনার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

যুদ্ধ শেষ করতে এবং মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে একটি রূপরেখা দাঁড় করানোর চেষ্টায় নাকভি দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা করছেন, বলেছে ইসনা।  

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, আলোচনায় ‘কিছু ভালো লক্ষণ’ দেখা যাচ্ছে, কিন্তু তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে টোল কার্যকর করে তাহলে কোনো সমাধানই হবে না। 

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই তেহরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় এবং এখন পর্যন্ত তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান প্রণালি দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে পারেনি। 

“কিছু ভালো লক্ষণ আছে। আমি অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না, দেখা যাক সামনের কয়েকদিনে কী হয়,” বলেছেন তিনি। 

দুই পক্ষের মধ্যে ‘ব্যবধান কমে এসেছে’ বলে বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন এক ইরানি সূত্রও রয়টার্সকে বলেছেন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতভেদ এখনও প্রকট। 

পশ্চিম এশিয়ার এ যুদ্ধ এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোর ধাক্কা দিয়েছে, তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে তাতে মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা নিয়েও অনেকের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে। 

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই গন্তব্যে যেত। এখন সেই সঙ্কীর্ণ জলপথটিতে নৌযান চলাচলে তেহরানের নিষেধাজ্ঞা কেবল জ্বালানিই নয়, সার, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহে ভয়াবহ বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। 

শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে শুক্রবার মার্কিন ডলার ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছে পৌঁছেছে, আদৌ কোনো ‘ব্রেক থ্রু’ আসবে কিনা তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্দেহে তেলের দামও চড়ছে। 

“আমরা দ্বাদশ সপ্তাহের শেষে চলে এসেছি, যুদ্ধবিরতিরও ছয় সপ্তাহ যাচ্ছে, কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমস্যার সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছি বলেও মনে হচ্ছে না আমার,” বলেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা আইজি-র বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চ মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ পাবেই। 

এই ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর স্বপ্নে বিভোর বলে দাবি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের। অন্যদিকে তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়ামের উদ্দেশ্য পুরোপুরিই শান্তিপূর্ণ। 

“আমরা এটা পাবো। আমরা এটা চাই না, দরকারও নেই। হয়তো পাওয়ার পর সেগুলো আমরা ধ্বংস করে ফেলবো, কিন্তু কোনোমতেই সেসব আমরা তাদের কাছে রাখবো না,” বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এমনটাই বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

ট্রাম্পের এ মন্তব্যের আগেই ইরানের দুই ঊর্ধ্বতন সূত্র রয়টার্সকে বলেছিল, তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মুজতাবা খামেনি এক ফতোয়া জারি করে বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। 

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলে তেহরান যে ফি বসাতে যাচ্ছে তারও কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। 

“আমরা এটি খোলা দেখতে চাই, একে অবাধ দেখতে চাই। কোনো টোল চাই না। এটা আন্তর্জাতিক জলপথ,” বলেছেন তিনি। 

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে, যা নভেম্বরে হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলকে বিপদে ফেলেছে বলে মত রয়টার্সের। 

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এখনই ট্রাম্পের জনসমর্থন সবচেয়ে কম, বলেছে তারা।

কয়েকদিন আগে তেহরান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের সর্বশেষ প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবেও হরমুজের ওপর ইরানের পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ সম্পদ ফেরত দেওয়া ও পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো দাবি আছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। 

ট্রাম্প এ ধরনের শর্ত আগে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা চুক্তির দিকে না গড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।