Published : 24 Nov 2025, 04:42 PM
অস্ট্রেলিয়ার কট্টর ডানপন্থি সেনেটর পলিন হ্যানসন সোমবার একটি বোরকা পরে পার্লামেন্টে হাজির হয়েছেন। এতে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রয়টার্স লিখেছে, জনসমক্ষে মুসলিম পোশাক নিষিদ্ধ করার জন্য নিজের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অংশ হিসেবে তিনি একাজ করেছেন। এই অস্বাভাবিক কাজ করায় তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তুলেছেন অষ্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের মুসলিম সেনেটররা।
জনসমক্ষে বোরকা ও অন্যান্য পূর্ণ মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার জন্য পার্লামেন্টে একটি বিল পেশের অনুমতি চেয়েছিলেন হ্যানসন। কিন্তু এই বিল পেশের অনুমতি পাননি তিনি। এর কিছুক্ষণ পর বোরকাটি পরে আসেন তিনি।
বোরকা পরা অবস্থায় হ্যানসন হেঁটে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে প্রবেশ করলে সেনেট ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তিনি বোরকা খুলতে অস্বীকার করলে সেনেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
নিউ সাউথ ওয়েলসের থেকে নির্বাচিত গ্রিন পার্টির মুসলিম সেনেটর মেহরীন ফারুকি বলেন, “তিনি একজন বর্ণবাদী সেনেটর, নির্লজ্জ বর্ণবাদ প্রদর্শন করেছন।”
ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য থেকে আসা স্বতন্ত্র মুসলিম সেনেটর ফাতিমা পেম্যান সেনেটর হ্যানসনের এই অস্বাভাবিক কাজকে ‘অসম্মানজনক’ বলে বর্ণনা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার সেনেটে ক্ষমতাসীন মধ্য-বাম লেবার সরকারের নেতা পেনি ওং এবং বিরোধী জোটের ডেপুটি সেনেট নেতা অ্যান রাস্ট, উভয়েই হ্যানসনের ভূমিকার নিন্দা জানান।
এরা ‘অস্ট্রেলিয়ার সেনেটের সদস্য হওয়ার যোগ্য নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন ওং। বোরকা খুলতে অস্বীকার করলে হ্যানসন অধিবেশন থেকে বহিষ্কার করার প্রস্তাব করেন তিনি। কিন্তু হ্যানসন কক্ষ ত্যাগ রাজি না হলে সেনেটের অধিবেশন মুলতবি করা হয়।
হ্যানসন কুইন্সল্যান্ড থেকে নির্বাচিত সেনেটর। ১৯৯০ এর দশকে এশিয়া থেকে অভিবাসন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের তীব্র বিরোধিতা করার মধ্য দিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে নিজের পার্লামেন্ট ক্যারিয়ারজুড়ে তিনি ইসলামিক পোশাকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন।
এর আগে ২০১৭ সালেও তিনি আরেকবার পার্লামেন্টে বোরকা পরে হাজির হয়েছিলেন। সেবারও দেশজুড়ে বোরকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। সেনেটে তার নেতৃত্বাধীন ওয়ান ন্যাশন পার্টির চারটি আসন আছে।
পরে এক ফেইসবুক পোস্টে হ্যানসন জানিয়েছেন, তার প্রস্তাবিত বিল প্রত্যাখ্যান করার প্রতিবাদ জানিয়ে বোরকা পরেছিলেন তিনি।