১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারতের ককরোচ পার্টির সংসদ অভিমুখি মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

এই কর্মসূচির জন্য উদ্যোক্তারা তাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেননি, তাই চলমান আন্দোলন বেআইনি বলে দাবি পুলিশের।

ভারতের ককরোচ পার্টির সংসদ অভিমুখি মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ
বিক্ষোভকারীরা তাদের মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে পার্লামেন্ট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সেটি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Jul 2026, 03:27 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:41 PM

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরুর পর দলটির সমর্থকদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।  

সোমবার ভারতীয় পার্লামেন্টের বর্ষা অধিবেশনের প্রথম দিনটিতে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। 

তার আগে রোববার সন্ধ্যায় দিল্লি পুলিশ জনিয়ে দেয়, এই কর্মসূচির জন্য উদ্যোক্তারা তাদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেননি। তাই চলমান আন্দোলন বেআইনি। 

পুলিশ জানিয়েছে, আগাম অনুমতি নিয়ে কেবল যন্তর মন্তরে মিছিল কিংবা সভা-সমাবেশ করা যাবে। এর বাইরে কোথাও এ ধরনের কোনও কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না।

এরপর দিল্লিতে সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এই কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের পাশাপাশি সেন্ট্রাল দিল্লিতে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

কিন্তু তারপরও তরুণদের নেতৃত্বাধীন ‘ককরোচের’ হাজার হাজার সমর্থক সংসদ অভিমুখি মিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য সোমবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়। ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাদের এ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী বলে জানিয়েছে রয়টার্স।  

ব্যাপকভাবে ব্যারিকেডে ঘেরা যন্তর মন্তরে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীরা তাদের মিছিল নিয়ে এগিয়ে যেতে চাইলে পার্লামেন্ট থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সেটি থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

কর্মসূচীতে বাধা দিতে যন্তর মন্তরে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়। ছবি: রয়টার্স

কর্মসূচীতে বাধা দিতে যন্তর মন্তরে প্রচুর পুলিশ ও আধাসামরিক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়

বিক্ষোভকারীরা ‘ভাগো, ভাগো’, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান ভাগো’, ‘নরেন্দ্র মোদী ভাগো’ বলে হিন্দিতে শ্লোগান দেয়। এসব শ্লোগানে তারা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর পদত্যাগ দাবি করে। 

ভারতের আনন্দবাজার অনলাইন জানিয়েছে, পুলিশ অনুমতি না দিলেও ‘সংসদে চলো’ কর্মসূচীতে অনড় সিজেপি। বৃষ্টির মধ্যেই যন্তর মন্তর থেকে মিছিল শুরু করে তারা। অনেকেই রেইনকোট পরে, হাতে সংবিধান ও জাতীয় পতাকা নিয়ে মিছিলে যোগ দেয়। কিন্তু তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের নিষেধ না শুনে ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে ককরোচ পার্টির তরুণ সদস্যরা। 

কর্মসূচী শুরুর আগে সামাজিক মাধ্যমে করা একটি পোস্টে সিজেপি বলে, “ভারি বৃষ্টি ও কড়া নিরাপত্তাও আজ ককরোচদের (আরশোলা) থামাতে পারবে না।”  

পুলিশের লাঠিচার্জ সত্ত্বেও দলটি তাদের সমর্থকদের ‘শান্ত’ থাকতে বলেছে। দলটি বলেছে, “যদি আপনাদের একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে থামিয়েও দেয়, শান্ত থাকবেন ও শান্তি বজায় রাখবেন। আমরা শান্তি ও ভালোবাসা দিয়ে শুধু এটি জয় করতে পারবো।” 

নিট কাণ্ডের প্রতিবাদে ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের দাবিতে ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচী শুরু করে সিজেপি। ২৭ জুন এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আন্দোলন মঞ্চে অনশনে বসেন। অনির্দিষ্টকালের অনশনে ২১ দিন পার হওয়ার পর স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। 

ককরোচ পার্টির এই কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো, অভিনেত্রী শাবান আজমি। 

শাবানা বলেছেন, “আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে এসেছি। সংবিধান আমাদের এই অধিকার দিয়েছে।”