১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে যোগ না দিলে সৌদিকে ‘পরিণতি’ ভোগের হুঁশিয়ারি মার্কিন সেনেটরের

সৌদি আরবের মতো একটি দেশ, যারা পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে অংশ দিতে অনিচ্ছুক, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি করা উচিত কিনা- সে প্রশ্ন তোলেন মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

ইরান যুদ্ধে যোগ না দিলে সৌদিকে ‘পরিণতি’ ভোগের হুঁশিয়ারি মার্কিন সেনেটরের
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Mar 2026, 09:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:08 PM

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে যোগ না দেওয়ায় সৌদি আরবের কঠোর সমালোচনা করেছেন প্রভাবশালী মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। 

সোমবার এক্সে এক পোস্টে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই লড়াইয়ে যোগ না দিলে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ গ্রাহাম লিখেছেন, “আমার জানা মতে, এই বর্বর ও সন্ত্রাসী ইরানি শাসনব্যবস্থাকে হঠানোর লড়াইয়ে সৌদি আরব তাদের সক্ষম সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ এই ইরানই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে এবং সাতজন আমেরিকানকে হত্যা করেছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সৌদি আরবের মতো একটি দেশ যারা কিনা পারস্পরিক স্বার্থের লড়াইয়ে অংশ নিতে অনিচ্ছুক, তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি করা উচিত কি না?

গত ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় আহত সপ্তম আমেরিকান সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। 

এর আগে ইরান সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি এবং রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ অংশে হামলা চালায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের জন্য লিন্ডসে গ্রাহাম জোর তদবির করেছিলেন।

ঘাঁটি ব্যবহারে বাধা

গ্রাহামের এই বক্তব্য মূলত সেই তথ্যেরই প্রমাণ দেয় যে, সৌদি আরব তাদের মাটি ব্যবহার করে ইরানে কোনও ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়নি। 

গত মাসে গ্রাহাম সৌদি আরব সফর করে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে এই যুদ্ধে পাশে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা এখন ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহামের এই হুমকি চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণাত্মক অভিযানে অংশ নেবে না। 

জেনিভায় আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল-মুশারখ বলেন, “আমরা শুরু থেকেই কূটনীতি ও উত্তেজনা কমানোর কথা বলে আসছি। আমাদের ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে কোনও হামলায় ব্যবহৃত হবে না।”

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

সৌদি আরব ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে এই যুদ্ধ শুরু না করার জন্য অনুরোধ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, যুদ্ধ শুরু হলে তাদের জ্বালানি ও পানিশোধন কেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো আক্রান্ত হবে। 

বর্তমানে ইউএই, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়ায় সেই আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়াতে চায় না যাতে যুক্তরাষ্ট্রের জয় নিশ্চিত নয়। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহেও ইরানের শাসনব্যবস্থা অটুট রয়েছে। 

এমনকি ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দাবিকে উপেক্ষা করে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতাবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহে বলেছিলেন, তার ধনী অংশীদারদের ওপর এই ভয়াবহ হামলা তার জন্য ‘সবচেয়ে বড় বিস্ময়’। 

তবে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পকে এই পরিণতির কথা আগেই জানানো হয়েছিল, যা তিনি উপেক্ষা করেছেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।