২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপের বাইরেও বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সংকটের একটি গভীর কাঠামো আছে—মালিকানা, অর্থনৈতিক নির্ভরতা ও রাজনৈতিক স্বার্থের জটিল জাল। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে এই বাস্তবতা আরও নগ্ন হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবারের নির্বাচনি প্রচারণার শুরুতেই বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য যেভাবে সরাসরি ভোটের মাঠে নেমে এসেছে, তা উদ্বেগজনক।
সংস্কারের জন্য গণভোটের দাবি যখন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, তখন ভোটের মাঠে নেমে পড়েছে বিএনপি। তাদের এই পদক্ষেপ কি প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাপ বাড়াবে?
বাংলাদেশ আবারও নির্বাচনের প্রহর গুনছে। কিন্তু এই অপেক্ষার ভেতরেই লুকিয়ে আছে সংশয়, কূটনীতি ও ষড়যন্ত্রের ছায়া। এই দ্বন্দ্বে প্রশ্ন জাগে, আসলে কে গণতন্ত্র চায় আর কে চায় অচলাবস্থা টিকে থাকুক?
জোট রাজনীতির চেনা হিসাব বদলে দিতে পারে আরপিও সংশোধনের নতুন ধারা। প্রশ্ন উঠছে—সরকার কি বিশেষ কোনো দলকে অসুবিধায় ফেলে অন্য দলকে সুবিধা দিতে চাইছে?
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে ভুয়া খবর, ডিপফেক ভিডিও ও ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা গণতন্ত্রকে বড় হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। তথ্যযুদ্ধে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন।
ডাকসুতে শিবিরের বিজয়কে অনেকে ‘ষড়যন্ত্র’ বললেও বাস্তবতা ভিন্ন। ডাকসুতে শিবির জিতেছে জামায়াতের কৌশলে। আর ছাত্রদল হেরেছে বিএনপির ভুল রাজনীতি এবং জামায়াতের কৌশল বুঝতে না পারার অদক্ষতায়।
রাজনৈতিক বিভাজন, অনৈক্য, আইনশৃঙ্খলার অবনতি আর অবিশ্বাসের পরিবেশে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আসন্ন নির্বাচন কি সত্যিই হবে সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর, নাকি আবারও আশঙ্কা ও অনিশ্চয়তার ছায়ায় ঢাকা পড়বে?