দেহের অক্সিজেন দিয়েই চলবে হার্টের পেসমেকার?

গবেষকরা ইঁদুরের ত্বকের নিচে ‘সোডিয়াম-অক্সিজেন’ ব্যাটারি নামের একটি যন্ত্র স্থাপন করেন।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 April 2024, 09:06 AM
Updated : 1 April 2024, 09:06 AM

মানব দেহের অক্সিজেন দিয়েই চালানো যাবে বিভিন্ন মেডিকাল ইমপ্লান্ট ব্যাটারি— সম্প্রতি এমনই দাবি করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। এসব মেডিকাল ইমপ্লান্টের মধ্যে হৃদস্পন্দন চালু রাখায় সহায়ক কৃত্রিম পেসমেকারও রয়েছে।

পেসমেকার ও গ্যাস্ট্রিক স্টিমুলেটরের মতো বিভিন্ন মেডিকাল ইমপ্লান্ট মানব জীবনকে উন্নত করেছে। তবে, সমস্যা হচ্ছে এ ধরনের ডিভাইস ব্যাটারিতে চলে এবং ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে নতুন ব্যাটারি বসাতে হয় এবং সেজন্য ফের  অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।

গবেষকরা এই ব্যাটারি পাল্টাতে মানবদেহে বারবার কাটা-ছেঁড়া এড়ানোর পথ খুঁজছিলেন।

ইমপ্লান্টযোগ্য ব্যাটারি তৈরি করে মানবদেহে অস্ত্রোপচার বন্ধ করার একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়ে এসেছেন চীনভিত্তিক একদল গবেষক, যা এরইমধ্যে দেহের অভ্যন্তরে থাকা অক্সিজেন ব্যবহার করে নিজেকে ক্রমাগত চার্জ করে যাচ্ছে।

এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘কেম’-এর নতুন এক গবেষণাপত্রে। ল্যাবের ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা দেখিয়েছেন, এদের দেহের ভেতরে ব্যাটারিটি নিরাপদেই কাজ করে। ফলে মানুষের বেলাতেও বিভিন্ন গ্যাজেটের মাধ্যমে ব্যাটারি কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

“ধারণাটি হল— মানবদেহের অক্সিজেন ক্যাথোড হিসাবে কাজ করতে পারে। এটি ব্যাটারির এমন এক ইলেক্ট্রোড, যা বিদ্যুৎ প্রবাহের সুবিধা দেয়। আর এটি দেহের ‘মেটাবলিজম থেকে ক্রমাগত সংগ্রহ করা যেতে পারে’,”  লিখেছেন গবেষকরা।

সে তত্ত্বের ভিত্তিতে গবেষকরা স্বর্ণ ও সোডিয়াম থেকে তৈরি ইলেক্ট্রোড দিয়ে একটি ইমপ্লান্টযোগ্য ব্যাটারি বানিয়েছেন, যেখানে উভয় রাসায়নিকই মানব দেহের জন্য নিরাপদ। রাসায়নিকগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দেহের অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, যেখানে ব্যাটারির চারপাশের প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করে একটি প্লাস্টিকের স্তর।

পরবর্তী ধাপে গবেষকরা ইঁদুরের ত্বকের নিচে ‘সোডিয়াম-অক্সিজেন’ ব্যাটারি নামের একটি যন্ত্র বসিয়ে ট্র্যাক করেছেন, যন্ত্রটি এইসব ব্যাটারিতে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এর ফলাফলে দেখা যায়, ব্যাটারিগুলোতে ১.৩ থেকে ১.৪ ভোল্ট আউটপুট তৈরি হয়েছে।

পাশাপাশি, ইঁদুরের শরীরে দাহ্যতার মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণও পরিমাপ করেছিলেন গবেষকরা। তবে এমন কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

গবেষকরা বলছেন, ইমপ্লান্টযোগ্য উন্নত মেডিকাল ডিভাইসে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে নতুন ব্যাটারির আউটপুট যথেষ্ট নয়। তবে এটি এমন এক সম্ভাবনার কথা বলছে, যা, দেহের ভেতরে থাকা অক্সিজেনকে নিরাপদ ব্যাটারির সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

“আপনি চিন্তা করলে দেখবেন, অক্সিজেন আমাদের জীবনের একটি উৎস,” এক বিবৃতিতে বলেছেন চীনের ‘তিয়ানজিন ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি’র গবেষক ও এ গবেষণার লেখক জিজেং লিউ।

“আমরা দেহে অক্সিজেনের সুবিধা নিতে পারলে নতুন এই ব্যাটারির আয়ু প্রচলিত ব্যাটারিগুলোর মতো সীমিত হবে না।”

এখন গবেষকদের পরবর্তী পদক্ষেপ হল— এ ব্যাটারির আরেকটি প্রতিরূপ ব্যাটারি তৈরি করা, যেটি আরও শক্তিশালী এবং মানবদেহের জন্য নিরাপদ হবে।

গবেষকরা ধারণাটিকে সফলভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর বাণিজ্যিকীকরণ করতে পারলে সেটি রোগীদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উদাহরণ হিসেবে, রোগীর দেহে পেসমেকার ও ইমপ্লান্টযোগ্য চিকিৎসা প্রযুক্তি কখনও অকেজো হয়ে যাবে না, তা নিশ্চিত করা। অন্তত রোগীর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।