এআই নিরাপত্তা বাড়াতে জোট বাঁধছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য

এআই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে আরও ক্ষমতাধর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলও বাজারে আনছে কোম্পানিগুলো। সেগুলো নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এ সমঝোতা।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 April 2024, 02:41 PM
Updated : 2 April 2024, 02:41 PM

লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে স্বাধীনভাবের মূল্যায়নের জন্য একটি সাধারণ পদ্ধতি তৈরির উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।

ওপেনএআই, গুগল, অ্যানথ্রপিক ও অন্যান্য কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের জেনারেটিভ এআই মডেল তৈরি করছে। আর এআই প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে আরও ক্ষমতাধর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলও বাজারে আনছে কোম্পানিগুলো। সেগুলো নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এ সমঝোতা।

যুক্তরাজ্যের এআই সেইফটি ইনস্টিটিউট ও একই উদ্দেশ্যে তৈরি যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা, এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে ও সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে নানা ধরনের পরীক্ষা করবে। তবে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এ উদ্দেশ্যে দেশের সংস্থাটির ঘোষণা দিলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

এ অংশীদারিত্বের অংশ হিসাবে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, তথ্য, এমনকি কর্মীদেরও ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশদুটি। এ ছাড়া, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি হল, সর্বজনীনভাবে ব্যবহারযোগ্য কোনো এআই মডেলে যৌথ পরীক্ষা চালানো।

তাদের ‘সত্যিই দ্রুত কাজ করতে হবে, কারণ আগামী বছরের মধ্যে নতুন প্রজন্মের এআই মডেল বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে  — ব্রিটিশ দৈনিক ফাইনান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন চুক্তিতে স্বাক্ষর করা যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞান মন্ত্রী মিশেল ডনিলান।

এ অংশীদারিত্বটি এআই সুরক্ষা নিয়ে বিশ্বের প্রথম দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বলে উল্লেখ করেছে টাইমস। তবে, ভবিষ্যতে তারা অন্যান্য দেশের সঙ্গেও দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে।

“এআই আমাদের প্রজন্মের যুগান্তকারী প্রযুক্তি। এ অংশীদারিত্ব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বা বৃহত্তর সমাজের ঝুঁকিগুলো নিয়ে উভয় দেশের প্রতিষ্ঠানের কাজকে এগিয়ে নিতে চলেছে।” – বলেছেন মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো।

“আমাদের চুক্তি প্রমাণ করে, আমরা এ উদ্বেগগুলো থেকে পালিয়ে যাচ্ছি না, বরং সেগুলোর দিকে ছুটছি৷ আমাদের সহযোগিতার ফলেই ইনস্টিটিউটগুলো বিভিন্ন এআই সিস্টেম সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা অর্জন করবে,শক্তিশালী মূল্যায়ন পরিচালনা করবে ও কঠোর নির্দেশিকা জারি করবে৷”

এ বিশেষ অংশীদারিত্বটি পরীক্ষা ও মূল্যায়নের উপর নজর দিলেও, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার এআই টুল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রবিধান জারি করছে।

মার্চ মাসে, হোয়াইট হাউস একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে এটি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে যে ফেডারেল সংস্থাগুলো কেবল সেসব এআই টুল ব্যবহার করছে, যা এনগ্যাজেটের ভাষায়, ‘আমেরিকান জনগণের অধিকার ও সুরক্ষাকে বিপন্ন করে না’।

কয়েক সপ্তাহ আগেই, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠোর আইনে অনুমোদন দিয়েছে। এর আওতায় মানুষের আচরণকে কাজে লাগায় বা মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগায় এমন এআই মডেল, সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ‘বায়োমেট্রিক’ শ্রেণীকরণ ব্যবস্থা ও ‘ফেইশল রিকগনিশন’ ডেটাবেজ তৈরি করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ওয়েব থেকে মানুষের চেহারা শনাক্ত করার বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়েছে । পাশাপাশি, এ আইনের অধীনে ডিপ ফেইক, অন্যান্য এআই-জেনারেট করা ছবি, ভিডিও ও অডিওকে লেবেল করা বাধ্যতামূলক বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।