Published : 26 Feb 2023, 05:50 PM
সুস্থ থাকতে হলে নিজের স্বাস্থ্য তথ্য নিজের কাছে থাকতে হবে। আর এই তথ্য বিশ্লেষণে দরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমর্থিত প্রযুক্তি। এ লক্ষ্যে সরকারের উচিত একটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কারিগরি কমিটি করা।
এ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন অধ্যাপক ড. ফাতেমা আশরাফ। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত ১৭শ ‘বেসিস সফটএক্সপো’ আয়োজনের শেষ দিনে এক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথি হিসেবে কথা বলছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের গাইনী ও প্রসূতি বিভাগের সাবেক এই বিভাগীয় প্রধান।
স্মার্ট হেলথ কেয়ার ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সংশ্লিষ্ট নীতিমালা তৈরির আহ্বানও জানান তিনি।
‘স্বাস্থ্যসেবায় এআই, টেলিমেডিসিন এবং স্মার্ট হেলথ কেয়ার’ শিরোনামের ওই গোলটেবিল বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ডিজিটাইজেশন, স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যসেবায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহারসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি। আলোচনায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হ্যালোডক্টরের প্রতিষ্ঠাতা ফোরকান হোসেন ওয়্যারএবল ডিভাইস ব্যবহারে বিভিন্ন পরীক্ষার খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন।
“ডাক্তারের সিরিয়াল অনলাইনে করতেই হবে। ডিজিটাইজেশন করা গেলে দেখা যাবে এটাও একটা নিয়মের মধ্যে আসবে। এআইয়ের আগেও কিছু কাজ করার আছে। সেগুলো নিয়ে প্রস্তুত কিনা সেটাও দেখতে হবে অর্থাৎ সেবাগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অটোমেশন করতে হবে।”
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসক মুস্তাফ শিরা মৌসুমী টিকা, পুষ্টিহীনদের খাবারসহ বিভিন্ন বিষয় রিমাইন্ডার দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি টেলিমেডিসিন সার্ভিস চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
আইসিডিডিআর’বির গবেষক ড. তারজীর আহমেদ শুভ মনে করেন, সহজে স্বাস্থ্যসেবা পেতে স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের বাড়াতে হবে। তবে সেজন্য আমাদের নিজেদের আগে প্রস্তুত করতে হবে।
ডিআরআরএ’র নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা যে কাজ করছি সেখানে এআই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তবে সবকিছু এখনও অটোমেশন না হওয়ায় আমরা এর পুরো সুবিধা নিতে পারছি না।”
স্বাস্থ্যসেবা পেতে এই খাতের সম্পূর্ণরূপে অটোমেশন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে ডিজিটাইজেশনে যাওয়ার গুরুত্বের কথাই তুলে ধরেন বক্তারা। আর সেটি সম্ভব হলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উন্নতমানের সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।