লাইভের বক্তব্য ও চেহারাও বদলে দেবে এআই
এই প্রযুক্তির ফলে কোনটি ডিপফেইক আর কোনটি আসল, সেটি ধরা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ধরুন দুজন মানুষ একই রাজনীতিবিদের সরাসরি সম্প্রচারিত ভাষণ দেখছেন। তাদের একজন বক্তার হুবহু কথা শুনছেন। আরেকজন একই অবয়ব বা মুখভঙ্গিতে শুনছেন ভিন্ন কিছু।
অর্থাৎ বক্তব্য এমনভাবে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে যে কথার সঙ্গে মিলিয়ে মুখের নড়াচড়া ও চেহারাও বদলে গেছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট এমনই এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
ভিডিওতে শুধু শব্দ ফিল্টার করা বা সাবটাইটেল যুক্ত করার পরিবর্তে এই প্রযুক্তি ভিডিওর দৃশ্যই পাল্টে দেবে। ফলে দর্শকের কাছে মনে হবে, শুরু থেকেই বদলে দেওয়া কথাই তারা শুনছেন। সম্পাদন করা অডিও-ভিডিওটি খুবই স্বাভাবিক আর বাস্তবসম্মত মনে তাদের কাছে।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস ইউকে লিখেছে, বিষয়টি উদ্বেগজনক। কারণ এই প্রযুক্তির ফলে কোনটি ডিপফেইক আর কোনটি আসল, সেটি ধরা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মাইক্রোসফট ২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল এই প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্য আবেদন করে। চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর আবেদনের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়। ‘মাইক্রোসফট টেকনোলজি লাইসেন্সিং, এলএলসি’ এর নামে ওই আবেদন করা হয়। এ প্রযুক্তির উদ্ভাবক হিসেবে ডেভিড ক্যালাঘান ও দিনেশ কুমার নামে দুজনের নাম রয়েছে।
পেটেন্ট আবেদনটিতে কেবল একটি প্রস্তাবিত এআই প্রযুক্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এটি এখনো সবার নাগালে নেই। আর মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে এখনো বাজারে চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস ইউকে লিখেছে, এ এআই প্রযুক্তি সরাসরি সম্প্রচারিত অডিও ও ভিডিওতে শব্দ পরিবর্তন করতে পারবে। আর শব্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বক্তার ঠোঁটের নড়াচড়াও বদলে দেবে, যা মনে হবে খুব স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত।
এর মাধ্যমে কেউ চাইলে আপত্তিকর শব্দ বা কথা বাদ দিতে পারবেন। ভুল শব্দ, উচ্চারণ কিংবা ‘উম’, ‘আ’, ‘অ্যা’- এমন শব্দ ফেলে দিয়ে বক্তব্য আরও সাবলীলভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে ১ থেকে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে।
এর ফলে সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্য আরও পরিশীলিত ও শ্রুতিমধুর হয়ে উঠতে পারে। আবার বক্তা প্রকৃতপক্ষে যা বলেছেন, দর্শকরা তার বদলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছুও শুনতে পারেন।
তবে এটি সাংবাদিক, সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য উদ্বেগের কারণ। একইসঙ্গে আদালত বা বিচারে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও বিপত্তি তৈরি করতে পারে। সম্পাদন করা ভিডিও যদি দেখতে ও শুনতে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, তাহলে আসলে কী বলা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
পেটেন্ট আবেদনে ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ের জন্য মূল অডিও ও ভিডিওকে সংরক্ষণের কথাও বলা হয়েছে। মূল রেকর্ড সংরক্ষণ করা হলে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা প্রমাণ করতে সহায়ক হতে পারে।
তবে কোনো পরিবর্তন বা সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে দর্শকদের স্বচ্ছভাবে জানানো এবং মূল অডিও-ভিডিওতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়াটাও জরুরি।
