ডিজিটাল ভবিষ্যতের পরিকল্পনা জানালেন ডিজনি প্রধান

“ডিজনি অবশ্যই একটি লাইফস্টাইল। প্রশ্ন হচ্ছে, পরবর্তী প্রজন্মের সুবিধা ব্যবহার করে ডিজনি তার গ্রাহকের জন্য কী বিশেষায়িত সেবা ও অভিজ্ঞতা পরিবেশন করতে পারে।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 01:34 PM
Updated : 12 Sept 2022, 01:34 PM

বিনোদন খাত, থিম পার্ক এবং গ্রাহক পণ্য নিয়ে কাজ করা ওয়াল্ট ডিজনি সাম্রাজ্যের আগামী একশ বছরের গল্প বলার ধরন কী হবে তার একটি রূপরেখা দিলেন সিইও বব চ্যাপেক।

রোববার ভক্তদের জন্য আয়োজিত দ্বিবার্ষিক ‘ডি২৩ এক্সপো’ সম্মেলনের ‘ব্যাক স্টেজে’ রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেন সিইও চ্যাপেক। ওই আলাপচারিতায় বিশেষ একটি শব্দকে চ্যাপেক এড়িয়ে যেতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন বলে উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে, যে শব্দটিকে তিনি বলেছেন ‘এম-ওয়ার্ড’।

“অথচ, গেল বছর ডিজনিকে মেটাভার্সের দিকেই নিয়ে গেছেন তিনি।”

চ্যাপেকের বর্ণনা অনুযায়ী, ডিজনির চোখে মেটাভার্সই হতে যাচ্ছে ‘পরবর্তী প্রজন্মের গল্প বলা’র বৈঠকখানা।

গ্রাহককে ‘পার্সোনালাইজড’ বিনোদন অভিজ্ঞতা দিতে প্রতি জন গ্রাহকের থিম পার্ক পরিদর্শন ও স্ট্রিমিং অভ্যাস থেকে সংগ্রহ করা ডেটা ব্যবহার করতে চান তিনি। ডিজনি মালিকানাধীন ‘মার্ভেল’ ও ‘লুকাসফিল্ম স্টুডিও’ থাকছে এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।

“ডিজনি অবশ্যই একটি লাইফস্টাইল।” --রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার আনাহেইমে সম্মেলন চলাকালীন রয়টার্সকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।

“প্রশ্ন হচ্ছে, এই সব তথ্যের সঙ্গে গল্প বলার এই পরবর্তী প্রজন্মের সুবিধা ব্যবহার করে ডিজনি তার গ্রাহকের জন্য কী বিশেষায়িত সেবা ও অভিজ্ঞতা পরিবেশন করতে পারে।”

মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ যখন মেটাভার্সের ঘোষণা দেন তখন একটি টেকসই, ত্রিমাত্রিক ও চলমান পরিবেশের কথা বলেন তিনি যেখানে নিজস্ব অ্যাভাটারের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করা, সময় কাটানো ও বিভিন্ন শখ পূরণ করা সম্ভব হবে। এর পর থেকেই মেটাভার্সে নিজস্ব জোরালো অবস্থান তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছে বিভিন্ন বিনোদন ও প্রযুক্তি কোম্পানি।

মেটার এই ঘোষণার অনেক আগে থেকেই ডিজনির থিম পার্ক তদারকির দায়িত্বে ছিলেন চ্যাপেক। ২০২০ সালে কোম্পানির শীর্ষ দায়িত্ব নেওয়ার আগে বেশ কয়েক বছর তিনি পরিকল্পনা করেছেন যে সব ‘দর্শক’ বিশ্বব্যাপী ছড়ানো ডিজনির ছয়টি থিম পার্কের একটিতেও যাবেন না তাদের কাছে এই সব পার্কের অভিজ্ঞতা কীভাবে নিয়ে যাওয়া যায়।

এর অংশ হিসেবেই এক বছর ধরে প্রস্তুতির কাজগুলো সেরেছে কোম্পানিটি। নতুন তৈরি করা বিভাগ ‘নেক্সট জেনারেশন স্টোরিটেলিং’ ও ‘কনজিউমার এক্সপেরিয়েন্সে’ নিয়ে এসেছে মিডিয়া এবং প্রযুক্তিতে দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞ নির্বাহী মাইক হোয়াইটকে।

ডিজনির ক্রিয়েটিভ বিভাগের কর্মীদের জন্য বিভিন্ন টুলকিট তৈরির অ্যাসাইনমেন্টও পেয়েছেন হোয়াইট। পাশাপাশি, অগমেন্টেড রিয়ালিটি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গল্প বলায় নতুন মাত্রা আনার উপায় নিয়েও মাথা খাটাচ্ছেন তিনি।

এর একটি উদাহরণ হিসেবে চ্যাপেক এই সপ্তাহেই ‘ডিজনি+’-এ মুক্তি পাওয়া একটি আট মিনিটের অগমেন্টেড রিয়ালিটি শর্ট ফিল্মের কথা উল্লেখ করেন।

“আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরে সবাই কী দেখবেন, তার একটি বড় প্রভাবক হতে পারে এটি।” --বলেছেন চ্যাপেক।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক