চীনে ‘ট্রান্সলেট’ সেবা বন্ধ করে দিয়েছে গুগল

সার্চ থেকে শুরু করে ট্রান্সলেট পর্যন্ত সবখাতেই স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে গুগলের। পিক্সেল ফোনের উৎপাদনও চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়েছে গুগল।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Oct 2022, 02:13 PM
Updated : 3 Oct 2022, 02:13 PM

চীনের মূল ভূখণ্ডে ‘ট্রান্সলেট’ সেবা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছে ওয়েব জায়ান্ট গুগল। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে যথেষ্ট সেবাগ্রাহক মিলছিল না বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

গত এক দশকে চীনের বাজার থেকে সিংহভাগ সেবা গুটিয়ে নিয়েছে গুগল। সেখান থেকে সার্চ ইঞ্জিন সেবা গুটিয়েছে ২০১০ সালেই।

চীনের মূল ভূখণ্ডের জন্য পরিচালিত ওয়েবসাইট ব্যবহারের চেষ্টা করলে সেবাগ্রাহকদের ওয়েবসাইটের হংকংভিত্তিক সংস্করণে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সিএনবিসি।

এ প্রসঙ্গে সোমবারের এক বিবৃতিতে গুগল বলেছে, “ব্যবহার কম হওয়ায় আমরা চীনের মূল ভূখণ্ডে গুগল ট্রান্সলেট বন্ধ করে দিচ্ছি।”

চীনের বাজারের সঙ্গে গুগলের সুসম্পর্ক নেই দীর্ঘ দিন ধরেই। সেখানকার সরকার দেশটির বাজারে কার্যত ব্লক করে রেখেছে গুগল ম্যাপস এবং জিমেইল সেবা।

এর ফলে সার্চ ইঞ্জিন বাইদু এবং সোশাল মিডিয়া জায়ান্ট টেনসেন্টর মতো স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো চীনের বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। সার্চ থেকে শুরু করে ট্রান্সলেট পর্যন্ত সবখাতেই স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে গুগলের।

চীনে হার্ডওয়্যার উৎপাদন চালু রাখলেও গেল মাসেই নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পিক্সেল ফোনের উৎপাদন চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়েছে গুগল।

পাশাপাশি চীনা ডেভেলপারদের অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে গুগল। চীনের স্থানীয় বাজারে প্রবেশলে সুযোগ না পেলেও গুগল প্লে স্টোরের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে উপস্থিতি থাকবে অ্যাপগুলোর।

সিএনবিসি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে সার্চ ইঞ্জিন নিয়ে চীনের বাজারে ফেরার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করেছিল গুগল। কিন্তু নিজস্ব কর্মী আর রাজনীতিবিদদের বিরোধীতার মুখে সে চেষ্টাও বাদ দিয়েছে কোম্পানিটি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক আর বাণিজ্যিক রেষারেষির উত্তাপ ছড়িয়েছে প্রযুক্তি শিল্পেও। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্টস আর সেমিকন্ডাক্টরের মতো স্পর্শকাতর প্রযুক্তিগুলো চীনের আয়ত্বের বাইরে রাখার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক