এআই ও ড্রোনকেন্দ্রিক নতুন কমান্ড তৈরি করছে পেন্টাগন
“স্বল্পমূল্যের কম্পিউটিং, সুপারইন্টেলিজেন্স ও উন্নত বাণিজ্যিক উৎপাদন কম খরচে অসম্ভব নির্ভুল হামলার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে।”
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে স্বয়ংক্রিয় ও রোবটিক সক্ষমতা তৈরি এবং তা সরবরাহের উদ্দেশ্যে নতুন এক সামরিক কমান্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বুধবার এই নতুন কমান্ড গঠনের ঘোষণা এসেছে।
রয়টার্স লিখেছে, ‘অটোনমাস ওয়ারফেয়ার কমান্ড’ নামের নতুন এ ইউনিট বর্তমান যুদ্ধের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মতো প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কোনো সামরিক কমান্ড গঠন সচরাচর দেখা যায় না। এর আগে, ২০১৯ সালে সর্বশেষ ‘মার্কিন স্পেস কমান্ড’ গঠিত হয়েছিল।
ব্যয়বহুল প্রচলিত বিভিন্ন অস্ত্র প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে এসে কম খরচে তৈরি এআইচালিত অটোনমাস সিস্টেমগুলোর দিকে পেন্টাগনের ঝুঁকে পড়ার প্রচেষ্টাই এ পদক্ষেপে প্রতিফলিত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন সংঘাতে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখছে।
ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে শত শত জুনিয়র ও নন-কমিশনড অফিসাররের উপস্থিতিতে এক ভাষণে হেগসেথ বলেছেন, নতুন এ কমান্ড একজন চার তারকা জেনারেলের অধীনে পরিচালিত হবে।
গণমাধ্যমের কঠোর সমালোচনা করে দেওয়া তার ওই বক্তৃতার শিরোনাম ছিল ‘স্টেট অফ দ্য ফোর্স’। অনুষ্ঠানে তিনি ধর্ম বিষয়ক নতুন এক অফিস গঠনসহ অন্যান্য বেশ কিছু পরিবর্তন আনারও ঘোষণা দিয়েছেন।
যুদ্ধের পরিবর্তিত গতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে হেগসেথ বলেছেন, “যুদ্ধের প্রস্তুতির চেয়েও যুদ্ধের ধরন দ্রুতগতিতে বদলে যাচ্ছে। স্বল্পমূল্যের কম্পিউটিং, সুপারইন্টেলিজেন্স ও উন্নত বাণিজ্যিক উৎপাদন কম খরচে অসম্ভব নির্ভুল হামলার ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে।”
মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল ও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ১১টি কমব্যাট্যান্ট কমান্ড রয়েছে।
এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা
অনিয়ন্ত্রিত এআই বিকাশ ও প্রযুক্তির লড়াই বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আধুনিক এআই বিকাশ ও এর বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধান দুই চালিকাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তবে এআই নীতি ও শিল্প চর্চা নিয়ে দেশ দুটি একে অপরের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
সামরিক ব্যবস্থায় বা পারমাণবিক অস্ত্রসহ এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুরক্ষাবলয় তৈরি ও পারস্পরিক ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন উভয় দেশের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাদের বড় সামরিক বাজেটের ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে এই ধারা দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে পেন্টাগনের ভেতর থেকেই বলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, “আজ আমাদের মান ও পরিমাণ দুটোই প্রয়োজন।”
ইউক্রেইন যুদ্ধ ফুটিয়ে তুলেছে ড্রোন যুদ্ধের বাস্তবতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুদ্ধের প্রযুক্তি দ্রুত বিবর্তিত হয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেইন যুদ্ধ সেই পরিবর্তনের চিত্রটি স্পষ্ট ফুটিয়ে তুলেছে।
যে সংঘাতের শুরুটা হয়েছিল ট্যাংক ও গোলন্দাজ বাহিনীর আধিপত্য দিয়ে তা ধীরে ধীরে ড্রোন যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
প্রচলিত সমরাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের দিক থেকে পিছিয়ে থাকায় ইউক্রেইন তথ্য সংগ্রহ ও হামলার জন্য কম খরচে তৈরি চালকবিহীন সিস্টেম বা ড্রোনের শরণাপন্ন হয়।
রুশ বাহিনীর হতাহতের প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটে ড্রোন হামলার কারণে। ফলে দূর থেকেই হামলা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে ও পাইলট বা বিমানবাহিনীর ক্রুদের ঝুঁকি অনেকাংশে কমেছে।
ড্রোনের হুমকি ঠেকাতে পেন্টাগন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু অগ্রগতি পেয়েছে। যার মধ্যে ড্রোন ঠেকাতে নজর দিতে ‘জয়েন্ট ইন্টারএজেন্সি টাস্ক ফোর্স ৪০১’ নামের একটি টাস্ক ফোর্স গঠনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
